চোখের স্নায়ু জটিল কেন হয়

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোগ হলো চোখের শুষ্কতা, কনজাংটিভাইটিস, গ্লুকোমা, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, ডায়াবেটিক রেটিনার ক্ষয়, ছানি, দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা, ট্যারা চোখ, অলস চোখ, দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এ ছাড়াও হতে পারে চোখের স্নায়ুজনিত রোগ। এর মধ্যে মারাত্মক এক জটিল রোগের নাম ক্র্যানিয়াল নার্ভ পালসি (cranial nerve palsy), যেখানে এক বা একাধিক ক্র্যানিয়াল নার্ভ সংযুক্ত থাকে। ১২ জোড়া ক্র্যানিয়াল নার্ভ সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে ফোরমেনস নামক মাথার খুলির ছিদ্রের মাধ্যমে মুখের বিভিন্ন অংশে সংযুক্ত থাকে। ক্র্যানিয়াল নার্ভের সাহায্যে চোখ, ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের মাংসপেশির সব ধরনের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু এই নার্ভের মাংসপেশি অবশ হয়ে গেলে অথবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ক্র্যানিয়াল নার্ভ পালসি দেখা দেয়। ফলে মাংসপেশিতে হঠাৎ করে খিঁচুনিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

রোগের কারণ

এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন মুখ ও মাথায় প্রচ- আঘাত থেকে নার্ভ বা স্নায়ু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ রোগ হতে পারে। কোনো ধরনের অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত চিকিৎসক যে কোনো একটি নার্ভ কেটে ফেললেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাল্টি স্কোরোসিসও অনেক সময় নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কখনো কখনো এ রোগের জন্য দায়ী।

লক্ষণ

ক্র্যানিয়াল নার্ভের সঙ্গে সংযুক্ত মাংসপেশিগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যায়। যেমন মুখের মাংসপেশির সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং এ রোগ হলে মুখের আকারের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। হাসতে, চোখ নাড়াতে এবং অন্যান্য মুখভঙ্গি করতে ভীষণ অসুবিধা হয়। মুখের এক বা একাধিক মাংসপেশি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে মুখের বিভিন্ন অংশ ঝুলে পড়ে, অসাড় বা প্যারালাইজড হয়ে যায়। কখনো কখনো ঝাঁকুনিরও সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ডাবল ভিশন বা দ্বৈত দৃষ্টি, মাথাব্যথা, চোখে কম দেখা, অস্বাভাবিক অনৈচ্ছিক নড়াচড়া, অনুভূতি কমে যাওয়া, চোখের পাতার অস্বাভাবিক নড়াচড়া, চোখের মণির অসমতা, চোখে ব্যথা হওয়া, মুখমন্ডল ব্যথা, কথা বলতে কষ্ট হওয়া, মাংসপেশিতে খিঁচুনি বা টান ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ফেসিয়াল লাসারেশন বা মুখের কোথাও জখম হলেও এই রোগ থেকে ফেসিয়াল অথবা ট্রাইজেমিনাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য নার্ভ, যেমন কিউটেনাস নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসা

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা। সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সেবন। টিউমার হলে সার্জারি বা রেডিওথেরাপি দেওয়া। কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক বা স্নায়ু সাপোর্টিভ ওষুধ সেবন। ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন । চোখের পেশি বা মুখের পেশি দুর্বল হলে বিশেষ ব্যায়াম। কথা জড়িয়ে গেলে স্পিচ থেরাপি নেওয়া। চোখের নড়াচড়ার সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকলে অপারেশন লাগতে পারে।

পরামর্শ : যেসব রোগ থেকে কোনো নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলোর ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। রোগের শুরুতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে এ রোগের ঝুঁকি থেকে অর্থাৎ ক্র্যানিয়াল মনোনিউরোপ্যাথি-৩ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত