ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশার প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় তারা অবস্থান নেন।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এর আগে টানা চারদিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ব্যাংকে তিন মাসের বেশি সময় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে কার্যক্রম চালানোর বিধান নেই। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে তিন মাস পার হলেও স্থায়ী এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করছে না। এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে একটি পক্ষের হাতে প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যা ব্যাংক কোম্পানি আইনে এককভাবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া অথবা বাজারে বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা উচিত।
নুরুন্নবী মানিক আরও বলেন, ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করে ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
চাকরি ফেরতের দাবিতে অবস্থান
অন্যদিকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তাদের ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও কয়েকজন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল সাড়ে ১২টার দিকে শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন তারা।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।
গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টিপু। তিনি বলেন, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।