জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে পিলখানা হত্যাকা-ে হারানো শহীদদের প্রতি সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস ছিল। পিলখানার ঘটনা পরিক্রমায় জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে উঠেছে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে শহীদ সেনা অফিসারদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।’
‘২০০৯ সালে পিলখানায় শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের পরিবারবর্গ ও নিকটাত্মীয়, পিলখানায় চাকরিরত সেসব সেনা অফিসার যারা দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন’ এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি (গতকাল), জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যা বেদনার সময় পেরিয়ে আজও বহমান। আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অমøান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতার পরে দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএ শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করেন।
পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : সকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানা হত্যাকা-ে শহীদ হওয়া সেনাসদস্যদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ফুল দেওয়ার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুজন কুশলাদি বিনিময় করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তিন বাহিনী প্রধান যথাক্রমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়রাও ছিলেন বনানীর সামরিক কবরস্থানে।
আইজিপিকে ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী : দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বিটিভিকে জনগণের প্রচার মাধ্যমে পরিণত করতে চায় সরকার : তথ্যমন্ত্রী
গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনকে কীভাবে জনগণের প্রচার মাধ্যমে রূপান্তরিত করা যায়, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরির জন্য তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘একটা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কমিউনিকেশন সিস্টেমের মধ্যে সারা পৃথিবী এখন প্রবেশ করেছে। আমরা সেই আলোকে বিটিভিকে জনগণের প্রচার মাধ্যমে রূপান্তরিত করতে চাই। এ ধারণাকে কীভাবে মূর্ত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা হোমওয়ার্ক করব।’
জামায়াতের ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ : সকালে প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে ইফতারের দাওয়াত দিতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধানমন্ত্রী ইফতারের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অসুস্থতার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।