প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর সৌদি আরবে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১০ এএম

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানকে সরকারিভাবে সফরের জন্য ভারত, চীন, জাপান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য কোন দেশকে বেছে নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে আলোচনা। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে প্রথম বিদেশ সফরে তিনি সৌদি আরব যেতে পারেন।

সফর নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে আমরা কাজ করছি। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে জানানো হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে যোগ দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। হুমায়ূন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। সেখানে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গটিও আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরটি হলে তা আগামী ৬ মার্চ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া গত রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সৌদি আরব সফর হলে দেশটির বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে। আর ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সৌদি আরবে আরও কর্মসংস্থান ও বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত কর্মীদের স্বার্থরক্ষা আলোচনায় একটি বড় বিষয় হিসেবে আসতে পারে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও জ¦ালানি সহায়তা বাড়ানো, বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক আলোচনায় আসতে পারে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী সৌদি আরব গেছেন। সেখানে সবমিলিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করে।

সৌদি ব্যবসায়ীরা এর আগে বিভিন্ন সময় ডিজিটাল ফাইন্যান্স, খাদ্য ও পানীয় শিল্প, আবাসন, নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন।  সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সে দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাবেন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, বেকারি আইটেম, ভেজিটেবল, জুস, পাটপণ্যসহ অনেক পণ্য সৌদি আরবে রপ্তানি হয়। দেশটি থেকে আমদানি হয় জ্বালানি তেল ও এলএনজি, সার ও খেজুরসহ বিভিন পণ্য।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সফরে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান সফরসঙ্গী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারা ওমরাহ করতে পারেন।

দিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ উপলক্ষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরে আসা ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে মোদি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত  সোমবার তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমানকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানায় দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত