রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

দুই মাস বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের রাউজানে আবার শুরু হয়েছে খুনোখুনি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অলিমিয়াহাট বাজারে। দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে যুবদলকর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদকে (৫০)।

দলীয় সূত্রের দাবি, নিহত আবদুল মজিদ পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে আবদুল মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, এর আগেও তার স্বামীর ওপর হামলা হয়েছিল। তখন তিনি বেঁচে যান। এবার তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি একই বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে একই কায়দায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২১টি হত্যাকা- ঘটেছে। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।

তাঁতী দলের নেতাকে পিটিয়ে হত্যা : সোনাগাজীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইয়াকুব নবী তারেক নামে তাঁতী দলের নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। ঘটনাটি গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে ঘটে। নিহত তারেক ওই গ্রামের লস্কর মাল বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নিহত তারেকের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদ ইসলামের তর্কাতর্কি হয়। ইফতারের পর মীমাংসা করার কথা বলে তারেককে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।

নিহতের পিতা কামাল উদ্দির বলেন, ছেলের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করেছি। মাগরিবের নামাজ পড়ার পর আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায় নাহিদ। কিছুক্ষণ পর চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি নাহিদ ও তার বাবা-ভাই মিলে আমার ছেলেকে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছে। ছেলেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তারা আমার ওপরও হামলার চেষ্টা করে। পরে শোর চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ, আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

নিহতের মামাতো ভাই আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, হামলার পর গুরুতর আহত তারেক ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত