গানেই বসবাস ডলির

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১০ এএম

ডলি সায়ন্তনী। একসময়ের দেশের সংগীতাঙ্গনে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি নাম। যে নাম শুনলে দীর্ঘদিনের গানপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে একগুচ্ছ সুপারহিট গান। ক্লাস নাইনে থাকাকালেই ‘হে যুবক’ অ্যালবামের মাধ্যমে অডিও বাজারে নতুন মুখ হিসেবে নজর কাড়েন। গানটি যখন চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেলের উত্থানপতন সিনেমায় ব্যবহৃত হয়, তখন যেন দেশ জুড়ে এক ধরনের হইচই পড়ে যায়। এভাবেই আধুনিক, ফোক গানের পাশাপাশি প্লে-ব্যাকেও ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। একসময় অডিও বাজারে নারী শিল্পী হিসেবে পারিশ্রমিকের শীর্ষে থাকা নন্দিত গায়িকা ডলি সায়ন্তনী এখন গানের বাজার থেকে অনেকটাই দূরে। এমনকি দেশ থেকেও দূরে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন বাংলাদেশের ঠিক উল্টো পাশে সুদূর কানাডায়। সেখানে টুকটাক গানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবসময় সরব থাকতে দেখা যায় তাকে। অনেক ভিডিও এবং ছবিও শেয়ার করেন নিয়মিত।

যদিও এখন রোজা শুরু হওয়ায় গানকে দূরে রেখে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটাচ্ছেন। কানাডা থেকে ডলি সায়ন্তনী জানান, গত রমজানের দোয়া, কান্না, তারাবিহ সব যেন এখনো চোখের সামনে। অথচ আরেকটা রোজা চলে এসেছে। জীবন সত্যিই খুব ছোট। জানতে চাওয়া হয়, রমজানের ব্যস্ততা ছাড়া এমনিতেই সময় কাটে কীভাবে? জবাবে ডলি সায়ন্তনী বলেন, সব মিলিয়ে ভালোই কাটে কিন্তু সময়। গানের মাঝেও অনেকটা সময় কেটে যায়। গান আমার মনের খোরাক। গান থাকলে বা গান গাইলে এমনিতেই অন্যরকম উন্মাদনা তৈরি হয় মনের মধ্যে। সেই উন্মাদনাতেই সময় কীভাবে পার হয়, টের পাই না। কানাডায় প্রায়ই আমার শো থাকে। প্রথম যখন আসি, বুঝতে পারিনি লম্বা সময় থাকব। যখন বুঝলাম, তখন বাংলাদেশ থেকে হারমোনিয়াম ও গানের খাতা আনিয়েছি। গানের রেওয়াজ নিয়মিত করছি। কানাডায় আছি বলে যে গান রেকর্ড করছি না, এমনও নয়। এখানে থেকেই আমি নতুন সব গানে কণ্ঠ দিচ্ছি। আমার বাসার কাছেই স্টুডিও রয়েছে। সেখান থেকে গান রেকর্ড করে দেশে পাঠিয়ে দিই। এভাবেই সময় কাটছে। দেশ থেকে দূরে আছি এটা বুঝতেই পারছি না। সবসময় দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’

দূর দেশের গান ও শো নিয়ে ডলি সায়ন্তনীর ভাষ্য, ‘এখানে এর আগেও অনেক শো করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। আমি বেশ উপভোগ করি এই দেশের শোগুলো। কারণ এখানে গান শুরু করার পর মুখটুকু গাইলে আর গাইতে হয় না, শ্রোতা-দর্শকই মিউজিকের তালে তালে বাকি গান গেয়ে দেন। এ ভালো লাগা অন্যরকম। বলে বোঝানো মুশকিল।’

এখন তো গান শুধু শোনার নয়, দেখারও বিষয় হয়ে গেছে। পুরনো গানও নতুন করে তৈরি করার একটা প্রবণতা শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। আপনি নিজেও আপনার জনপ্রিয় গানগুলোর নতুন করে গাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। এ বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্ত কী আগের মতোই অনড় রয়েছে? ডলির জবাব, ‘আমার সিদ্ধান্তে আমি অবিচল। আর এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি কোম্পানি থেকে অনেক আগেই একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল আমাকে। তবে আমার কাছে তখন বিষয়টি একটু অন্যরকম লেগেছিল। ভেবেছিলাম শ্রোতারা যেভাবে পুরনো গান গ্রহণ করেছেন, তাদের মনে যে জায়গা পেয়েছে, নতুন সংগীতায়োজনে সেই জায়গাটা নিতে পারবে কি না এ নিয়ে চিন্তা ছিল। তবে অন্য যারা গাইছেন দেখছি বেশ সাড়া পাচ্ছেন। পরে সিদ্ধান্ত নিই, আমিও ট্রেন্ডে শামিল হব। এরপরই একজন প্রযোজকের সঙ্গে কথা হয়। আমার “হে যুবক” গানটি নতুন করে সংগীতায়োজনের জন্য কণ্ঠ দিয়েছি। শুধু এটিই নয়, আমার গাওয়া জনপ্রিয় সব গানই ধারাবাহিকভাবে নতুন করে করব।’

নিজের ইউটিউব চ্যানেল প্রসঙ্গে এই গায়িকা বলেন, ‘এটাও এক ধরনের স্রোতে গা ভাসানো বলা চলে। সবার মতো আমিও নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খুলি। এটা নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব সাড়া পাচ্ছি এমনটা বলব না, তা ছাড়া এখান থেকে খুব বড় কিছু হবে এভাবেও চিন্তা করিনি। তবে ইচ্ছা আছে এখানে নিয়মিত গান প্রকাশ করার। এরই মধ্যে আমার এবং আমার মেয়েদের গাওয়া কয়েকটি গান প্রকাশ করেছি। চ্যানেলে বর্তমানে এক লক্ষাধিক গ্রাহক হয়েছে। তবে কনটেন্ট আরও বাড়াতে হবে। এটাও বুঝি। কিন্তু আমি চ্যানেলের টেকনিক্যাল দিকগুলো খুব একটা বুঝি না। এজন্য একজনকে খুঁজছি, যে আমাকে সহযোগিতা করবে, চ্যানেলের দেখাশোনার জন্য। এ রকম একজন বিশ্বস্ত লোক পেলে নিয়মিত গান প্রকাশ করব।’

নিজের নিয়ে ডলি বলেন, নিজের গান বলতে এবারের ঈদে নতুন একটি ফোক গান প্রকাশ করছি। গানটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘মইরা যদি যাইগো আমি’। একদমই প্রাথমিক অবস্থায় আছে গানটি। শিগগিরই গানটি পুরোপুরি সম্পন্ন করব। তারপর ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। অনেক সুন্দর কথামালা দিয়ে গানটি সাজানো হচ্ছে। আমার বিশ্বাস সব ধরনের শ্রোতারই ভালো লাগবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত