বিয়ের ছয় মাস না যেতেই মাদারীপুরে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধুর শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্বশুরের যৌন হয়রানির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। নিহত সাথীর ঝুলন্ত লাশ তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ, স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুবাই প্রবাসী অহিদুল খান ও রুনা বেগমের মেয়ে সাথী আক্তার (১৯)। প্রতিবেশি গোলাম বেপারীর ছেলে কাইয়ুম বেপারীর (২২) সাথে সাথীর প্রেমের সর্ম্পক হয়। এরপর তাদের পারিবারিকভাবে গত ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের এক সপ্তাহ পর স্বামী কাইয়ুম বেপারী অবৈধভাবে ইতালী যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তিনি লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। এদিকে সাথীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই বিয়ে মন থেকে মেনে নেয়নি। এমনকি পাশেই তার বাবার বাড়িতেও যেতে দিতেন না। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর গোলাম বেপারী, শাশুরী পেয়ারা বেগম, ননদ সীলা আক্তার ও তার স্বামী রকিব মুন্সিসহ ওই বাড়ির লোকজন নির্যাতন করত।
ঘর থেকে বেশি বের হতে দিতো না। মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করত। এক পর্যায় তার শ্বশুর সাথীকে যৌন হয়রানি করতেন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে শ্বশুর সাথীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এনিয়ে তার সঙ্গে সাথীর কথা কাটাকাটি হয়। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সাথী তার স্বামীর মোবাইলে পাঠান। এনিয়েও রাতে ঝগড়া হয়। সেই ভিডিওটি সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
পরের দিন সকালে সাথী আত্মাহত্যা করেছে বলে তার শাশুরী চিৎকার করতে থাকেন। তখন আশেপাশের লোকজনসহ সাথীর বাবার বাড়ির লোকজন এসে দেখে সাথীর মরদেহ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলে আছে। এসময় লোকজন ভীর করলে কৌশলে শ্বশুরবাড়ির সবাই পালিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গোলাম বেপারী দীর্ঘদিন ধরে পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তার যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই সাথী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনায় শ্বশুরের বিচার হওয়া উচিত।
নিহতের চাচী জিয়াসমিন বেগম বলেন, সাথীর শ্বশুর বিয়ের পর থেকেই মানসিক, শারীরিক এমনকি যৌন নির্যাতনও করে আসছিল। গতকাল রাতেও সাথী যৌন হয়রানির শিকার হয়। সেই ঘটনা ভিডিও করার কারণে সাথীকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। শুধু ওর শ্বশুর নয়, ওর শাশুরী, ননদ ও ননদের স্বামী নানাভাবে নির্যাতন করত। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
নিহতের খালা হালিমা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে সাথীকে তার বাবার বাড়িতে আসতে দিতো না। সব সময় অত্যাচার করত। ওর শ্বশুর প্রায় সময় সাথীকে যৌন হয়রানি করত। আমরা ওদের সবার বিচার চাই।
এদিকে ঘটনার পর থেকে সাথীর শ্বশুর বাড়ির সবাই পলাতক থাকায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
