ইরানের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম

ইরানের হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত খারগ দ্বীপে বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর: আল-জাজিরা

ট্রাম্প জানান, এখন পর্যন্ত দ্বীপটিতে অবস্থিত তেলের স্থাপনাগুলোকে এই হামলার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ফ্লোরিডার উদ্দেশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার কিছুক্ষণ পরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান।

ট্রাম্প জানান, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা ইরানের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমি এখনো  দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীন ও নিরাপদ পথ ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে আমি এই সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করব।

ইরানকে অস্ত্র সমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের দেশের যা অবশিষ্ট আছে, তা বাঁচাতে এখনই অস্ত্র নামিয়ে রাখা উচিত।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তেল স্থাপনা থাকায় ইরানের কাছে খারগ দ্বীপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে ইরানের ‌‘রাজমুকুট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এটি তার অতিরঞ্জিত বর্ণনা নয়।

পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে ইরানি শহর বুশেহরের কাছাকাছি অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের তেল অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।

ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এখান থেকেই অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারগুলোতে লোড করা হয়, যা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি হয়ে চীনের মতো দূরবর্তী বাজারগুলোতে পৌঁছে যায়।

খারগ দ্বীপে হামলা হওয়া মানে সরাসরি ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডে আঘাত করা। এই দ্বীপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হামলার ঘোষণা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত