টেনিস কোর্টে এক সময় দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। প্রতিপক্ষের সার্ভ সামলাতে ব্যস্ত থাকা সেই অ্যাশলে হার্কলরোড এখন ব্যস্ত নিজের গ্ল্যামারাস জগত নিয়ে। অবসরের পর অনেক অ্যাথলেটই কোচিং বা ধারাভাষ্যকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, কিন্তু হার্কলরোড হেঁটেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে। ৩৯ বছর বয়সী এই সাবেক মার্কিন টেনিস তারকা এখন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন দুনিয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত নাম।
হার্কলরোডের এই সাহসী যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ২০০৮ সালে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি প্রথম পেশাদার অ্যাথলেট হিসেবে বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ‘প্লেবয়’-এর প্রচ্ছদে নগ্ন হয়ে পোজ দিয়ে আলোড়ন তৈরি করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার অ্যাথলেটিক শরীর নিয়ে গর্বিত। আমি নারী অ্যাথলেটদের দেখাতে চেয়েছিলাম যে সাধারণ মডেলদের মতো তাদের শরীরও সুন্দর হতে পারে।’
২০১২ সালে টেনিস থেকে পাকাপাকিভাবে অবসরের পর তিনি কিছুদিন ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। বর্তমানে ‘অনলিফ্যানস’-এ নিজের সাহসী ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে বিপুল অনুসারী তৈরি করেছেন তিনি। এমনকি স্বামী ও সাবেক টেনিস খেলোয়াড় চাক অ্যাডামসের সঙ্গে মিলে নীল সিনেমাতেও নাম লিখিয়েছেন তিনি।
২০০০ সালে পেশাদার টেনিসে হাতেখড়ি হওয়া হার্কলরোড ২০০৩ সালে ক্যারিয়ার সেরা ৩৯ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে উঠেছিলেন। বিখ্যাত কোচ হোসে লুইস ক্লার্কের অধীনে খেলা এই তারকা গ্র্যান্ড স্ল্যামের বড় আসরগুলোতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তৃতীয় রাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছানোই ছিল তার সেরা সাফল্য। ক্যারিয়ারে ২১৩টি জয়ের পাশাপাশি প্রাইজমানি হিসেবে আয় করেছেন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
অর্থনৈতিক চিন্তাই তাকে এই জগতে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে জানান হার্কলরোড। তার ভাষায়, ‘যদি আমার ভক্তরা একটি সাহসী ছবির জন্য পাঁচ ডলার খরচ করতে রাজি থাকে, তবে আমি কতদূর যেতে পারি?’ বর্তমানে নিজের ক্যারিয়ার এবং শরীর নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী এই তারকা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-কে বলেন, ‘আমি এখন আমার জীবনের সেরা সময়ে আছি।’
