লিবিয়ায় আটক ও দুর্ভোগের শিকার হওয়া ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে লিবিয়ার ত্রিপলীস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১১৩ জন এবং বেনাগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ৬২ রয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় লিবিয়ার ত্রিপলীস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১১৩ জন এবং বেনাগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ৬২ জনসহ মোট ১৭৫ জন স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসনেচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে বুরাক এয়ারের ফ্লাইটযোগে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
