পিরোজপুরে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস. এম. মনিরুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন– জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার জুনিয়া গ্রামের মো. হামেদ হাওলাদারের ছেলে মো. সুমন হাওলাদার (২৬)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভান্ডারিয়া উপজেলার জুনিয়া গ্রামের আ. আজিজ হাওলাদারের কন্যা জুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা-মাতার সম্পর্ক না থাকায় মামা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত।
২০১৮ সালের ৩ মার্চ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্কুল ছুটি হলে আসামি সুমন তাকে জোরপূর্বক ওই গ্রামের জনৈক ফিরোজ পাহলোয়ানের খালি বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষণ করে। সে বাড়ি ফিরে তার মামাকে ঘটনাটি বললে বিষয়টি স্থানীয়রা মিমাংসার আশ্বাস দিলেও ভিকটিমের মামা তাতে রাজি না হয়ে ১৬ মার্চ সুমন হাওলাদারকে আসামি করে ভান্ডারিয়া থানায় ধর্ষনের মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ৬ জনের সাক্ষ্য প্রমাণে আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত ওই রায় দেন।
এ বিষয়ে নারী-শিশু পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সরদার বলেন, দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বিজ্ঞ আদালত যে রায় প্রদান করেছে। তা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে আইনজীবী ছিলেন নারী-শিশু পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সরদার শাহজাহান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।
