শামুক নিদ্রা তিন বছর 

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

প্রচণ্ড ধীরগতির স্থলচর প্রাণী ‘শামুক’। সাধারণত তারা স্যাঁতসেঁতে এবং ছায়াযুক্ত জায়গায় বসবাস করে। এই প্রাণীর শরীর শক্ত খোলসে আবৃত। এই খোলস তাদের শরীরকে রক্ষা এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। আর্দ্রতা তাদের বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত। কিন্তু এমন শামুকও রয়েছে, যারা প্রচ- গরম জায়গায় দিব্যি বেঁচে থাকে। যদিও এই বেঁচে থাকার জন্য তারা নানারকম উপায় বের করেছে। তার একটি হচ্ছে, তিন বছর টানা ঘুমিয়ে থাকা। এই ঘুমকে জীববিদ্যার ভাষায় বলা হয় ‘হাইবারনেশন’। বাংলায় যাকে বলা হয় ‘শীতনিদ্রা’। এ কৌশলে সাধারণত শীত বা বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিতে, শরীরে জমা চর্বি ও পুষ্টির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে এই প্রাণী। টানা ৩ বছরের ঘুমকে শামুকদের ‘সামার স্লিপ’ বলে ব্যাখ্যা করেন বিজ্ঞানীরা। রাতে জেগে থাকার সময় তারা খাবার সংগ্রহ করে। সকালে যেহেতু অসহ্য গরম, তাই সেই সময়টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সেভাবে  তৈরি করে নেওয়ায় শামুক কিন্তু যথেষ্ট বুদ্ধিমান। প্রাণিকুলের মধ্যে এই চরিত্রের আরও কিছু প্রাণী রয়েছে, যারা এমন কৌশল অবলম্বন করে। তবে আমাদের দেশে কাঠবিড়ালিসহ কিছু প্রাণী রয়েছে, যারা একটানা দীর্ঘসময় ঘুমিয়ে থাকে। এর মানে হচ্ছে, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা মানুষ ছাড়াও অন্য অনেক প্রাণীর মধ্যে রয়েছে যার অধিকাংশই অজানা। শামুক সাধারণত ২ থেকে ১০ বছর বা তার বেশি সময় বাঁচে।  তবে প্রজাতি ও পরিবেশ ভেদে তাদের আয়ু ভিন্ন। স্বাদুপানির শামুক ১-৩ বছর, স্থলচর শামুক ২-৫ বছর এবং বড় প্রজাতির শামুক ১০ বছরের বেশি বাঁচতে পারে ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত