বিশ্বশান্তির আহ্বান ছায়ানটের

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ০৭:০০ এএম

রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ছায়ানটের আয়োজনে ‘বিশ্বশান্তির আকুতি’ নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব। উদ্বোধনী পরিবেশনা শুরু হয় ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় সম্মেলক নৃত্যগীত ‘ভুবনজোড়া আসনখানি’ দিয়ে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানম-ির ছায়ানট মিলনায়তনে শুরু হওয়া এ উৎসবে পরিবেশিত হয় একক ও সম্মেলক গান, নৃত্য এবং পাঠ-আবৃত্তি। ছায়ানটের নিজস্ব শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পী ও দল আয়োজনে অংশ নেয়।

উৎসবে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের শেষ ভাষণের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘মনুষ্যত্বের এই প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম সত্য বলতে আমি অস্বীকার করছি এই উচ্চারণ ছিল স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের। যে রবীন্দ্রনাথ শান্তির জন্য, সংঘাতহীন বিশ্বের জন্য, হিংসা-বিদ্বেষশূন্য বিশ্বের জন্য প্রাণপাত করেছেন; লিখেছেন গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, সেই রবীন্দ্রনাথকে আজ স্মরণ করছি।’

বক্তব্যের শেষে সারওয়ার আলী বলেন, ‘আমরা সেই রবীন্দ্রনাথের কথা বলছি যে রবীন্দ্রনাথ গদির উপরে ব্রাহ্মণ পাশে আর মুসলমান গরিব প্রজারা এমনি মেঝের উপরে তার প্রতিবাদ করেছিলেন। আমি সেই রবীন্দ্রনাথের কথা বলছি যে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ, পতিসরে সাদাসিধে কর্মী রবীন্দ্রনাথে রূপান্তরিত হন। যে রবীন্দ্রনাথ ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তন করেন, যে রবীন্দ্রনাথ এই পদ্মাপাড়ে এসে কিশোরী বধূ, পোস্টমাস্টার, গরিব অসহায় প্রজা তাদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। যার প্রভাব রবীন্দ্রনাথের কর্মে বারবার ফিরে এসেছে।’

এরপর অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান, একক পাঠ, একক সংগীত ও নৃত্যগীতের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় একাধিক রবীন্দ্রসৃষ্টি। একক পাঠে অংশ নেন আবৃত্তিশিল্পী ও অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

তার আবৃত্তির ফাঁকে ফাঁকে একক সংগীত পরিবেশন করেন মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা, আজিজুর রহমান তুহিন, ফারজানা আক্তার পপি, সত্যম দেবনাথ ও সেঁজুতি বড়ুয়া।  পরে ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করেন সম্মেলক গান। এ ছাড়া একক নৃত্য পরিবেশন করেন সামিনা হোসেন প্রেমা। অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি ‘সুপ্রভাত’ পরিবেশন করেন নাজমুল আহসান। অনুষ্ঠান শেষ হয় বেশ কিছু সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে।

আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিন আয়োজন শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দুই দিনব্যাপী উৎসবের বর্ণাঢ্য সূচনা : ‘রথের চাকার রবে জাগাও জাগাও সবে, আপনার ঘরে এসো বলভরে, এসো এসো গৌরবে’ এমন সেøাগানে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘৩৭তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা’ এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে, প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শাহজাহান হাফিজ এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীনের স্মৃতির উদ্দেশে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রাতঃকালীন অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ূম এবং সাধারণ সম্পাদক পীযূষ বড়ুয়া। বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রচেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই এই দীর্ঘ পথচলা। একই দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কলিম শরাফীর জন্মদিন আজকের দিনটিকে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

সভার শুরুতে সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে, শিল্পী শাহজাহান হাফিজ ও শিল্পী ডালিয়া নওশিন স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উৎসবের প্রথম পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সম্মিলিত ও একক পরিবেশনা। যৌথভাবে ‘সংগীতাঞ্জলি পরিবার’ এবং ‘বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস উত্তর’, ‘বিশ্ববীণা’র শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। একক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মুক্তি নন্দী (আমি তোমারও সঙ্গে), কবিতা কর্মকার (না চাহিলে যারে), জাফর সাদিক (অনেক কথা যাওনি বলে), পূরবী আলামিন (সুখে আমায় রাখবে কেন), তিথি মজুমদার (আমার মুক্তি আলোয় আলোয়) এবং সামিনা খানম (ওই শুনি যেন চরণধ্বনি রে)। এ ছাড়াও আরও অনেক শিল্পী তাদের কণ্ঠমাধুর্য দিয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন গিটারে নাসির উদ্দিন, কিবোর্ডে রবিনস, তবলায় মৃদুল পাড়িয়াল ও মন্দিরায় নাজমুল আলম।

বিকেল ৪টায় উৎসবের দ্বিতীয় অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কথাশিল্পী অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শব্দসৈনিক শিল্পী তিমির নন্দীকে ‘কলিম শরাফী’ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত