ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে ইরানকে যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।

সোমবার (১৮ মে) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রের বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার দেশটির সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শান্তি আলোচনা করছে পাকিস্তান। দুই দফায় আয়োজিত আলোচনা কার্যত কোনো সুফল বয়ে আনেনি। তবে ইসলামাবাদের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সেসময় থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি বর্তমানে তেহরান সফররত। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচটি শর্তের বিপরীতে সাড়া দিয়েছে ইরান। তারা সৈয়দ নাকভির কাছে সর্বশেষ সংশোধিত ১৪ দফা প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে।

তেহরানের গণমাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওই দাবিগুলোকে ‘অতিরিক্ত’ বলা হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বেশ তাৎপর্য বহন করছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, শান্তি আলোচনা চলাকালীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত ওএফএসির (অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল) নিষেধাজ্ঞা মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান তেলের দাম প্রশমিত করতে মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ দিনের জন্য সমুদ্রপথে ইরানের তেল ক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।

এটি ছিল দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিতে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন। একইসঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের আকাশছোঁয়া দাম মার্কিন ব্যবসা ও ভোক্তাদের ক্ষতি করবে বলে হোয়াইট হাউসের উদ্বেগের প্রতিফলন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল, এই পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রচুর তেল আসবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে তেহরান ও তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল অবকাঠামোর ক্ষতি এবং প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ এই মজুত পুনরুদ্ধার নাও হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত