ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহটি নিয়ে ফেনী সুলতানপুর এলাকার পৌর কবরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে কিছু অপরিচিত মানুষ তার শেষ গোসল দিলো, জানাজায় পড়ালেন, অপরিচিত কিছু হাত তাকে কবরে শুইয়ে দিল।
গত ১০ এপ্রিল ফেনীর বিসিক এলাকা থেকে এই বৃদ্ধকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় কিছু মানুষ। ভর্তি করা হয়েছিল ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে চাতক পাখির মতো পথ চেয়েছেন, কখনো দরজার দিকে তাকিয়ে খুঁজেছেন চেনা কোন মুখ, কেউ আসেনি কিনা তার খোঁজে।
অবশেষে গত রবিবার (১৭ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিভে যায় জীবনের শেষ প্রদীপ, পরিচয়হীন জীবনের প্রদীপ। তার পরিচয় শনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই পোষ্ট দিয়ে চেষ্টা করেছেন। এমন কি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (চইও) তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েকবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োমেট্রিক ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় জানার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আফসোস, কোনো ডেটাবেজেই মিলল না এই বৃদ্ধের পরিচয়।
ফেনীর সাংবাদিক এনএন জীবন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেন, যদি ছবির এই মানুষটি আপনার চেনা হয়ে থাকে, কিংবা কোনো পরিবার যদি তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান করে থাকেন, তবে দয়া করে তাদের জানান, তাদের প্রিয় মানুষটি আর নেই। তিনি এখন ফেনীর সুলতানপুর পৌর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত।
আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন। ওপারে অন্তত উনার একাকীত্ব দূর হোক।
ফেইসবুকে আজাদ নামে আরেকজন লিখেন, তিনি তো চলে গেলেন ওপারে, কিন্তু পেছনে রেখে গেলেন এক বুক কষ্ট, হাহাকার। কোনো এক মা, বাবা, ভাই বা সন্তান হয়তো এখনো পথ চেয়ে বসে আছে তার প্রিয় মানুষটির জন্য।
