পোশাকে মিলল আরও একজনের রক্তের নমুনা

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০২:২৮ এএম

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফলে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত চারজনের নমুনা শনাক্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এলো। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তরিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে সেখান থেকে জানানো হয়, তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য জানায়। পরে তনুর মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে তিনজনকে ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারের পর। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তনু হত্যাকা-ের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সে নমুনা তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গত রবিবার পর্যন্ত পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত