তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমাদের মূল যুদ্ধ হচ্ছে অশুভর বিরুদ্ধে শুভর যুদ্ধ, মানবতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে মানবতার যুদ্ধ বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ধর্মচর্চা তখনই সার্থক হবে, যখন ধর্ম ব্যবসাটাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারব, জানতে পারব ও বুঝতে পারব। আমরা অবশ্যই যে যার ধর্মকে কঠিনভাবে চর্চা করব। আর সে কারণেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের আমরা সমানভাবে শ্রদ্ধা করব। যখনই আমার-আপনার ধর্মবিশ্বাস, চর্চাকে কোনো মহল সূক্ষ্মভাবে একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার জন্য চক্রান্ত করবে, সঙ্গে সঙ্গে ওই ধর্ম ব্যবসায়ীকে আপনারা চিহ্নিত করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।
পরে তথ্যমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে বরিশাল টেলিভিশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ এবং গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, কমিশন গঠিত হলে সৎ সাংবাদিকরা উৎসাহিত হবেন, আর অসৎ সাংবাদিকদের জন্য তা হবে দুঃসংবাদ।
বরিশাল টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জবালা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাফিজ, সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি কাজী মিরাজ, দৈনিক শাহানামার সম্পাদক কাজী আজাদ প্রমুখ।
