কঙ্গোয় ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম

ইবোলার প্রাদুর্ভাবে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও, ৩৯০ জনের বেশি মানুষ এই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে বলে বিবিসি-কে জানিয়েছেন আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিবিসি'র মার্কিন অংশীদার সিবিএস জানিয়েছে, কঙ্গোতে এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের মধ্যে একজনের শরীরে উপসর্গ দেখা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও তিনজন সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। তবে তারা নিশ্চিতভাবে ভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য কঙ্গো ভ্রমণে ‘লেভেল ফোর’ বা চতুর্থ স্তরের ‘ভ্রমণ নির্দেশিকা’ জারি করেছে এবং দেশটিতে ভ্রমণ না করার নির্দেশ দিয়েছে।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের বিষয় হলেও এটি এখনও মহামারীতে রূপ নেওয়ার পর্যায়ে নেই।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছে যে, বর্তমানে যতটুকু ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে বা সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার তুলনায় এই ভাইরাসের প্রকোপ আরও বেশিও হয়ে থাকতে পারে, যা স্থানীয় এবং আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকি হয়ে বিরাজ করছে।

কঙ্গোর সীমানা পেরিয়ে এই ভাইরাস প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ছড়িয়েছে এবং ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দুই দেশকেই সীমান্তে নজরদারি করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা তাদের সীমান্তে স্ক্রিনিং ও নজরদারি জোরদার করছে। এছাড়া নাইজেরিয়া সরকারও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় (গিনি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া) ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারী হয়েছিল। সে সময় ২৮ হাজার ৬০০’রও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ১১ হাজার ৩২৫ জন প্রাণ হারায়। সেই প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত