আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে মোদি

‘গালাগালি’ কোনো পথ দেখায় না, বুকে টেনে নিতে চান তরুণদের

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০ এএম

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এক বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্দোলনকারী তরুণদের প্রতি সহমর্মিতা ও ক্ষমার বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা প্রশমনে সহিংস বা কঠোর অবস্থানের চেয়ে সঠিক পথপ্রদর্শন এবং আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এই বার্তায়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নরেন্দ্র মোদির ভেরিফায়েড পেজ থেকে উক্ত ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর বর্ণনাংশে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে লেখা হয় যে, গালাগালি বা কটু কথা কখনো কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে না। বরং যারা কিছুটা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং একসঙ্গে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে তার ও তার প্রয়াত মায়ের উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের একাংশের করা অনভিপ্রেত ও অশোভন মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রকাশ্য স্থানে এমন ভাষা প্রয়োগ কেবল সামাজিক ঐতিহ্যের পরিপন্থীই নয়, বরং তা দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। তরুণ প্রজন্মের এমন আচরণে তিনি মর্মাহত হলেও তাদের প্রতি কোনো প্রতিহিংসামূলক মনোভাব পোষণ করছেন না বলে স্পষ্ট জানান।

শাস্তির চেয়ে মানসিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে মোদি বলেন, ছোট বয়সে ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে শুধরে নেওয়াই হলো প্রকৃত সচেতনতা। আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা বা আইনি শাস্তির বদলে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণদের আদালতে দাঁড় করিয়ে বা শাস্তি দিয়ে সমাজের কোনো সুফল আসবে না। তাদের সঠিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে তোলাই অভিভাবক ও সমাজের আসল দায়িত্ব।

তরুণদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে একটি সুন্দর রূপকের মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন মোদি। তিনি বলেন, খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত জিহ্বা দাঁতের নিচে পড়ে কেটে যেতেই পারে, কিন্তু তাই বলে কেউ নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না। কারণ দুটোই মানুষের নিজের অঙ্গ। একইভাবে এই তরুণেরাও দেশের নিজস্ব সম্পদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত