এবার টিকাও বানিয়ে ফেলল এআই

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

দৈনন্দিন জীবনে সবই করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। কোনো সংকটে পড়লেই এআইয়ের শরণাপন্ন হচ্ছেন সবাই। আর সমাধানও আসছে দারুণ। তাহলে টিকা বানানো বাদ যাবে কেন? সেটাই এবার করে দেখাল এআই। যেভাবে মহামারির শঙ্কা বাড়ছে, টিকাও ভাইরাস ঠেকাতে জরুরী হয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি টিকা তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিজ্ঞানীদের দাবি, ইতিহাসে এই প্রথম কোনো টিকার মূল উপাদানটি পুরোপুরি এআই দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এবং তা মানুষের শরীরে সফলভাবে ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের ভাইরাস ও মহামারি রুখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, টিকাটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এর মধ্যে বর্তমান কোভিড-১৯-এর সব ভ্যারিয়েন্ট তো থাকবেই। পাশাপাশি যেসব ভাইরাস এখন কেবল প্রাণীদের দেহে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে মহামারি তৈরি করতে পারে, সেগুলোকেও এটি ধ্বংস করতে পারবে।

সাধারণত যেকোনো টিকা তৈরি করা হয় ভাইরাসের বর্তমান কোনো স্ট্রেইন বা রূপকে ভিত্তি করে। কিন্তু সমস্যা হলো, কিছু ভাইরাস খুব দ্রুত তাদের রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশন করতে পারে। ফলে প্রচলিত টিকাগুলো দ্রুত কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এবং বারবার তা আপডেট করতে হয়। যেমনটা কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) টিকায় দেখা যায়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি বলেন, আমরা সবসময় ভাইরাসের পেছনে পেছনে দৌড়াই। ভাইরাস রূপ বদলানোর পর আমরা টিকা আপডেট করি। কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ভাইরাসের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে চাই, যাতে নতুন কোনো মহামারি আসার আগেই আমরা সুরক্ষিত থাকতে পারি।

বিজ্ঞানীরা এই টিকা তৈরিতে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে একদম নতুন এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। প্রথমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নজরদারি প্রোগ্রামগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড সংগ্রহ করা হয়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এই বিশাল সংখ্যক জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে।

ভাইরাসগুলোর সাধারণ এবং অপরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যগুলো চিনে নিয়ে এআই এমন একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ ডিজাইন করে, যা পুরো ভাইরাস পরিবারকে একবারে চিনে রাখতে পারে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই মূল অংশ, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। এর ফলে ভাইরাস যতই রূপ পরিবর্তন করুক বা প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াক, আমাদের শরীর আগে থেকেই সেটিকে চিনে আক্রমণ করতে পারবে।

বিজ্ঞানীরা কেবল করোনাভাইরাসেই থেমে নেই। এই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ইতিমধ্যেই অন্যান্য ভাইরাসের টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত