বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনা পূবালী ব্যাংক পিএলসি এর প্রিন্সিপাল অফিসার নুরুন্নাহার নিম্নিকে সংবর্ধনা দিয়েছে ব্যাংকটি।
সোমবার (১৫ জুন) পূবালী ব্যাংক মিলনায়তনে নিম্নির এ সাফল্যকে সম্মান জানাতে এবং তাঁর অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পূবালী ব্যাংক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, নুরুন্নাহার সফলভাবে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহন করে দেশের জন্য অনন্য সম্মান অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের জন্য গর্বের এবং নারী ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসের উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
নুরুন্নাহার নিম্নি অদম্য সাহস, দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় এবং উচ্চতর সাধনার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক অর্জনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও পাশে ছিল পূবালী ব্যাংক। আগামীতেও পাশে থাকবে।
গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্নি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। এরপর ধাপে ধাপে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যেই এভারেস্ট সামিটের উপযুক্ত সময় ধরা হয়। ১৭ মে চূড়ান্ত আরোহণের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন তিনি। ধাপে ধাপে পৌঁছান ক্যাম্প ৩ এ। ২২ মে ক্যাম্প ৪ এর উদ্দেশে যাত্রা করেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিচে নেমে আসতে হয় তাঁকে।
এরপর অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় কয়েক দিন ক্যাম্প ২ এ অবস্থান করেন নিম্নি। ২৫ মে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে এলে আবার যাত্রা শুরু করেন। গতকাল পৌঁছান ক্যাম্প ৪ এ। সেখান থেকেই সন্ধ্যায় চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করে আজ নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের শিখরে ওঠেন তিনি। নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের এক শেরপা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।
বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি। তাঁর এই অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে।
২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ফিল্ডওয়ার্কে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর। পরে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে। চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও সেই টান কমেনি। ভুটান, ভারতের সিকিম এবং নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিং করেছেন তিনি।
প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখর জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন নুরুন্নাহার নিম্নি। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।