মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা এক ঝটকায় উড়িয়ে দিল ব্রাজিল। হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করেছেন স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহা, যাকে প্রথম ম্যাচে শুরুতে খেলাননি বলে সমালোচনা হয়েছিল কোচ আনচেলত্তির।।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স এবং ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী 'নম্বর নাইন' জার্সির মর্যাদা নিয়ে কথা বলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ৯ নম্বর জার্সি মানেই রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিদের অমলিন স্মৃতি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই জার্সি গায়ে চাপানোর চাপ নিয়ে কুনহা বলেন, 'ব্রাজিলের ইতিহাসে বহু কিংবদন্তি খেলোয়াড় এই জার্সি পরেছেন এবং দেশের জন্য পারফর্ম করেছেন। সেই ইতিহাসের অংশ হতে পারা, গোল করে দলকে সাহায্য করতে পারাটাই আসল। এই ৯ নম্বর জার্সিটার গভীরতা আমাদের বুঝতে হবে এবং তা মেনে নিতে হবে। আমার কাছে এই জার্সি পরাটা কোনো বাড়তি বোঝা বা চাপ নয়, বরং এটি একটি দারুণ গর্বের।"
বিশ্বকাপের শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও দলের প্রয়োজনে অবদান রাখতে পেরে উচ্ছ্বসিত কুনহা। তিনি বলেন, "এখনো সব ম্যাচে শুরুর একাদশে না থাকলেও, কেবল বিশ্বকাপের মঞ্চে থাকতে পারাটাই আমার জন্য বিশাল গর্বের। গত বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য আমি সবকিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু পারিনি। এবার এখানে এসে দলকে সাহায্য করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটা আমার স্বপ্নের মতো। আমরা এখনো বড় কিছু অর্জন করিনি, তবে বিশ্বকাপে এই জয় পাওয়াটা দারুণ অনুভূতির।"
শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর কুনহার ভিন্নধর্মী উদযাপন বেশ নজর কেড়েছে। ম্যাচ শেষে এর পেছনের রহস্য ফাঁস করে তিনি জানান, তিনি ফুটবলার হলেও মনে-প্রাণে একজন সার্ফিং ভক্ত।
কুনহা বলেন, "আমি জোয়াও পেসোয়ার ছেলে। মনকে ফুরফুরে রাখতে বাহিয়া ফরমোসায় সার্ফিং শুরু করেছিলাম। সার্ফিং এখন আমার জীবনের অংশ। অলিম্পিকজয়ী সার্ফার ইতালো ফেরেইরা আমার অন্যতম সেরা বন্ধু। সত্যি বলতে, আমি ফুটবলের চেয়ে সার্ফিং বেশি দেখি!"
কুনহার জোড়ায় হাইতিকে হারিয়ে নাচলো ব্রাজিল