সুনামগঞ্জ

বটবৃক্ষের নিচে আস্তানা, এলাকায় আতঙ্ক

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী পঞ্চায়েতের কবরস্থানের নির্জন জঙ্গলে পীর পরিচয়ে দিন কাটাচ্ছেন গয়াছ মিয়া (৩৫)। স্বপ্নাদিষ্ট পীর পরিচয়ের আড়ালে সেখানে গাঁজা ও মদের রমরমা আসর এবং রাতভর অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র কবরস্থানে এ ধরনের অপতৎপরতায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গয়াছ মিয়া দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফেরেন।

বাজিতপুর ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, ‘গয়াছ একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি। তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এসে জঙ্গলে ‘আস্তানা’ গেড়েছেন। এতে গোটা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

কারামুক্তির পর গয়াছ দাবি করেন, স্বপ্নে ‘অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে’ তিনি কবরস্থানে এসেছেন। এখানে তিনি জিন সাধনা করেন এবং মানুষজনকে আধ্যাত্মিক সহযোগিতা দেন। এ আধ্যাত্মিক আবরণের আড়ালে বাজিতপুরের গহীন জঙ্গলে শতবর্ষী বটবৃক্ষের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে তিনি দোতলা ঘর নির্মাণ করেন।

বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম বলেন, ‘গয়াছ একজন চিহ্নিত ভণ্ড। তিনি নির্জনে পীর সেজে মাদকের আখড়া তৈরি করেছেন। সন্ধ্যা হলেই জঙ্গলে শুরু হয় মাদকসেবীদের আড্ডা। চলে রাতভর গাঁজা ও মদের আসর।’

বাজিতপুর জামে মসজিদের সভাপতি সুনুর মিয়া বলেন, এটি শত বছরের পবিত্র কবরস্থান। এখানে মৃতদের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করা হয়। সেই পবিত্র স্থানে মদ ও গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম। তিনি ভণ্ড গয়াছের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত