মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহীর শিরোইল ও নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। তবে বিআরটিসি বাসগুলো যথারীতি চলাচল করছে।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, আমরা কাউকে বাস বন্ধের কোনও নির্দেশনা দেইনি। কয়েকজন শ্রমিক জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কর্মবিরতিতে গেছে। তারা মমিন ও শাহজাহান দুই শ্রমিককে মারধরও করেছে।
নজরুল ইসলাম হেলাল আরও অভিযোগ করেন, ওই পক্ষটি নির্বাচন চায় না, তারা সংবিধান ভেঙে চেয়ার নিতে চায়। তবে প্রশাসন বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং দ্রুতই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সাগর নামের একজন যাত্রী বলেন, আজকে আমার ঢাকা যাওয়া জরুরি। কিন্তু টার্মিনালে এসে দেখি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ ট্রেনের টিকিটও পায়নি। এখন বাধ্য হয়ে সিএনজি ভাড়া করে নাটোরে গিয়ে ঢাকার বাস ধরতে হবে। যাত্রীদের এই হয়রানি কবে যে বন্ধ হবে?
রাজশাহী মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ও পরিবহন শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে নির্বাচন না দেওয়ার জন্য একটি পক্ষ চেষ্টা চালায়। তারা সিদ্ধান্ত না মেনে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে নজরুল ইসলাম হেলালের চেম্বার ভাঙচুর করে এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।
রফিকুল ইসলাম পাখি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যখন জনগণের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই পরিবহন খাতকে অচল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা এই ষড়যন্ত্র করছে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য দ্রুত গাড়ি চালুর দাবি জানান তিনি।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।
জানা গেছে, সোমবার বৈঠক থেকে ফিরে শ্রমিকদের একটি অংশ শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি করে। তারা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে দূরপাল্লার বাসগুলো রাজশাহী ফেরা এবং অন্য জেলার বাস রাজশাহী থেকে বের হওয়ার জন্য আজ সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে সকাল থেকে
শ্রমিকদের কর্মবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় কোনও বাস ছেড়ে যায়নি।
টার্মিনালের অধিকাংশ টিকিট কাউন্টার খোলা থাকলেও কখন এই কর্মবিরতি প্রত্যাহার হবে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের একটা অংশ সাধারণ সভা করে নির্বাচনি কমিটি গঠন করতে চান। কিন্তু এখন তো সেটা সম্ভব না। এ জন্য তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সেটা আমরা দেখছি।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, মিটিং হলে সেখানে বাগবিতণ্ডা হতেই পারে। এর জেরে বাস বন্ধ রাখা কিংবা চেম্বারে হামলা করা ঠিক না। কিন্তু এটিই করা হয়েছে। তারা আমার চেম্বারে হামলা-লুটপাট করে বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আমরা মালিকপক্ষ। আমরা বলছি, বাস চলাচল করবে।