৪ মাস আমাকে সংসদে আসতে দেওয়া হয়নি: সরোয়ার আলম

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

বিগত চার মাস ধরে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে জাতীয় সংসদে আসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম।  

তিনি বলেন, এর ফলে তার নির্বাচনী এলাকা ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষ একজন সংসদ সদস্যের মাধ্যমে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রথমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছ থেকে বিশেষ সময় নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

সংসদ সদস্য বলেন, সূর্য সেন, প্রীতিলতা ও মনিরুজ্জামান ইসলামবাদীর স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘাঁটি। ১৯৭১ সালে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ হয়েছিল, তখন শহীদ জিয়াই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর ফটিকছড়ি ছিল শহীদ জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় নির্বাচনী এলাকা। সেই ফটিকছড়ির জনগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই আসনটি উপহার দিয়েছেন।

নিজের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ইনসাফের কথা বলে, তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে জাতির কাছে ছোট করার চেষ্টা করেছে। আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংকের মামলা ছিল না। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত আমাকে আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়েছে। মাত্র ছয় দিন প্রচারণার সুযোগ পেয়েও ফটিকছড়ির মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমার অর্ধেকের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে আইনি লড়াইয়ে জিতেই আমি এই পবিত্র সংসদে এসেছি, কারণ জনগণই ক্ষমতার উৎস।

ফটিকছড়ির রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে তিনি আরও বলেন, শহীদ জামাল উদ্দিনের পর ফটিকছড়িতে এই প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি সংসদে এসেছি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও মাত্র তিন মাস সংসদ সদস্য ছিলেন, পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ফটিকছড়ির মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অবহেলিত ফটিকছড়ির সার্বিক উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠানোর জন্য ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও জটিলতার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার পরিচালনায় এই শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের রুমে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এই সংসদ সদস্যের সংসদে আসার পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আনা ঋণখেলাপির অভিযোগের কারণে তাঁর প্রার্থিতা ও ফল প্রকাশ নিয়ে তীব্র আইনি জটিলতা দেখা দেয়। ফলে আটকে যায় তাঁর গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্ট এক রায়ে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা সম্পূর্ণ বৈধ বলে ঘোষণা করেন। এই রায়ের পরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন (গেজেট) প্রকাশ করে। গেজেট প্রকাশের পর পরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ আয়োজনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠানো হয় এবং সন্ধ্যায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে তার পথচলা শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত