বগুড়ায় ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

বগুড়া সদর উপজেলার একটি গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তরা হলেন— সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়নের ফাঁপোর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত লাল চান ফকিরের ছেলে মাহবুবুর রহমান, যিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন হিসেবে কর্মরত; একই এলাকার আজিজুল সোনারের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং মৃত আকবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহিদুল ও আলমগীরকে স্থানীয় লোকজন পুলিশে সোপর্দ করেছে। আরেক অভিযুক্ত মাহবুবুর পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই নারী প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ভুক্তভোগীর স্বামী জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ওই নারীর স্বামী বলেন, তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এই অপকর্ম করেছে এবং তা প্রকাশ করতে অভিযুক্তরা নিষেধ করে। তিনি এ ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

এসব বিষয়ে ফাঁপোর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রায়হান বলেন, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তাদের কাছে স্বীকার করেছেন ঘটনার বিষয়ে। তিনিও বিচার দাবি করেন।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। আরেক জন অভিযুক্তকে আটক করতে পুলিশ কাজ করছে। ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত