যে নামে বিশ্বজয়, সেই নাম ব্যবহার নিয়েই বিপাকে ভোজিনহা!

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

যে নামে হয়েছেন বিশ্বে পরিচয়, যেই নামে পুরো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে, সেই নাম নিয়েই এবার বড় বিপাকে পড়েছেন ভোজিনহা! ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক নতুন চিলিয়ান ক্লাব কোলো কোলোতে যোগ দিয়েই পড়েছেন এক অদ্ভুত নিয়মের গ্যাঁড়াকলে।

চিলিয়ান ফুটবলের কড়া বিধিমালার বেড়াজালে পড়ে ক্লাবটির জার্সিতে নিজের বিশ্বপরিচিত ‘ভোজিনহা’ নামটি হয়তো গায়ে জড়াতে পারবেন না তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, চিলিয়ান প্রথম বিভাগের কড়া নিয়ম বলছে, কোনো ফুটবলার জার্সির পেছনে নিজের ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন না। খেলোয়াড়দের বাধ্যতামূলকভাবে নিজেদের পারিবারিক পদবি বা নাম ব্যবহার করতে হয়। সেই হিসেবে বিচার করলে, ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে তার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াসের কোনো অংশ জার্সির নাম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

তবে চিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএনএফপি) কাছে কোলো কোলো বিশেষ কোনো ছাড়ের আবেদন করতে পারে কি না, সেটির ওপরই এখন নির্ভর করছে তার প্রিয় নামটির ভাগ্য। যদি সেই ছাড় মেলে, তবেই জার্সিতে ভোজিনহা নাম দেখা যাবে, অন্যথায় জন্মসূত্রের পদবিই হবে একমাত্র ভরসা।

অথচ বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে তিনি শুধুই একজন গোলরক্ষক নন, বনে গেছেন এক জীবন্ত রূপকথার। তার ‘ভোজিনহা’ নামটি পর্তুগিজ ভাষার, যেই শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘দাদি’ বা ‘নানি’। মাইন্ডেলো দ্বীপে শৈশবে দাদা-দাদির কাছে বেড়ে ওঠার সুবাদে বড় ছেলেদের সঙ্গে পাড়ার টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে সামান্য চোট পেলেই বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলত, সে বুঝি নালিশ জানাতে দাদির কাছে ছুটবে! সেই ছেলেবেলার খ্যাপানোর রশিকতাই একপর্যায়ে তার পেশাদার পরিচয়ের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে।

এদিকে তার আসল নাম ‘জোসিমার’ রাখার পেছনেও রয়েছে চমৎকার এক ইতিহাস। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তারকা ফুল-ব্যাক জোসিমারের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তার বাবা এই নাম রেখেছিলেন। যদিও নামের ইতিহাস এখানেই শেষ নয়; এর আগে ভোজিনহার বাবা তার নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘ভালদানো’ (আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হোর্হে ভালদানোর নামে)। কিন্তু কেপ ভার্দের সরকারি নিয়মে বিদেশি নাম রাখার অনুমতি না থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটাও তার জন্য সহজ ছিল না। উচ্চতাজনিত ও নানা প্রতিকূলতায় ২৫ বছর বয়সের আগে মূলধারার পেশাদার ফুটবলই খেলতে পারেননি তিনি। সাইপ্রাস, মলদোভা কিংবা পর্তুগালের অখ্যাত ক্লাবে যাযাবর জীবন পার করে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ফুটবল বিশ্বের আলোয় আসেন এই গোলরক্ষক।

মাঠের এই দীর্ঘ সংগ্রাম আর জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কোলো কোলোতে নাম লেখানো ভোজিনহার জন্য আর্থিক দিক থেকেও স্বস্তিদায়ক। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তিনি প্রতি মাসে ২৫ হাজার ডলার বেতন পাবেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এই অংকটি তার আগের ক্লাব শাভেসের ৯ হাজার ডলার (প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা) মাসিক আয়ের প্রায় তিন গুণ।

ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে এসে পাওয়া এমন বড় প্রাপ্তি এবং বহুদিনের লালিত স্বপ্নের ঠিকানায় পা রাখার আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই লড়াকু তারকা, ক্লাবে চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তটিতে অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা পেরিয়ে জার্সিতে নিজের ভালোবাসার নামটা টিকিয়ে রাখতে পারেন কি-না ভোজিনহা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত