১৭ বছরের আন্দোলনের ভিত্তির ওপরই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

‘জুলাই আন্দোলনের ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন’—এমন মন্তব্য করে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘আজকের বিরোধী দল জুলাই আন্দোলনে কোথায় ছিল? গত ১৭ বছর কোথায় ছিল? এগুলো তো প্রশ্নের বিষয়। আমরা তো জোট করেছি, যুগপৎ আন্দোলন করেছি। আজকে ৫ আগস্টের পর তারা বলে যে, বিরোধী দল নাকি একাই আন্দোলন করেছে! এ কথা তো অনস্বীকার্য যে, একটা অভ্যুত্থানের তো ভিত্তি লাগে। সেই ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন।’ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয় ঐক্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘সব আওয়ামী লীগ তো পালিয়ে যায়নি। সবার মামলা তো একরকম নয়। বিরোধী দল সংসদে বলছে, তারা নাকি ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেবে। এটা নিয়ে তো বিভেদের শুরু। নির্বাচনের আগে আমরা শুনেছি, তাদের অনেকে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। কারও পিএস বা সহকারীর কাছে টাকা উদ্ধার হয়েছে। যারা বিগত দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আজ ’৭১ সালের কথা বাদই দিলাম। কিন্তু ’৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে ছিল? তারা ভেবেছিল যে, এবার ক্ষমতায় আসবে। তবে বাস্তবে দিল্লি বহুদূর। তবে তারা কিছু আসন পেয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু কিছু নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির সমস্যা ছিল। একাধিক প্রার্থী ছিল। সেজন্যই তারা ভালো করেছে। অনেক আসনে প্রবাসী ভোটেও আমাদের দুর্বলতা ছিল। প্রবাসী ভোটকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এগুলো আসনে যাতে ফ্রেশ ইলেকশন হয়, এখন থেকেই খবর রাখতে হবে।’

সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি। মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে। তারা চায় স্বাভাবিক জীবন। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস হলো। এখনো খুব বেশি সমাধান করতে পেরেছি, সেটা বলা যাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন। আশা করি, আমরা সকলে তাকে সহযোগিতা করলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে চুরি ও লুটপাটের কারণে আমাদের নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। জমি কমছে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট্ট একটি দেশে ২০ কোটির ওপর মানুষ। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। আমরাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনেক প্রকল্প নিয়েছি। এগুলোর জাগরণ তৈরি করতে চাই।’ এ সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ডিবির মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা বিভেদ নয়, ঐক্য চাই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’ 

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি তারা আজকে সংসদে বিরোধী দল হয়েছে। এটা দেশের জন্য লজ্জার। আজকে তাদের ১১ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। আদতে এটি এখন ৯ দলে পরিণত হয়েছে। তারা নাকি আবার বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে। আমি বলব, নিজেদের পতন আগে ঠেকান। জনগণ আপনাদের প্রচারণা বুঝে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা তাদের এমপিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।’

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের জাদুতে মুগ্ধ। তিনি যেভাবে চলাফেরা করছেন, ব্যয় সংকোচন করছেন তাই সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিএনপি ঐক্যে বিশ্বাস করে কিন্তু জামায়াত সেটি করে না। ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা আছে তবে তার তো মাইনাস ফর্মুলা ছিল। তিনি বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। জামায়াত এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিল। সেজন্য তারা তো ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়নি। নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আজকে বিরোধী দল অভ্যুত্থানের হুমকি দেন। এটা কী কখনো সম্ভব? গণঅভ্যুত্থানের নায়ক যেই নাহিদ জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিল, সেই নাহিদ আজকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘আমরা সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণ স্লোগান ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সূচনা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত