ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ডাগআউটে এমন উত্তাল গ্রীষ্ম এর আগে কখনো দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। মাঠে বল গড়ানোর আগেই নতুন এক রেকর্ড গড়ে ফেলেছে ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এই আসর। আসন্ন ২০২৬-২৭ মৌসুমের উদ্বোধনী রাউন্ডেই লিগের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ নয়টি ক্লাব মাঠে নামবে নতুন স্থায়ী কোচের হাত ধরে, যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।
লিভারপুল থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি কিংবা নিউক্যাসলের মতো হেভিওয়েট ক্লাবগুলো ডাগআউটে এনেছে আমূল পরিবর্তন। পেপ গার্দিওলা কিংবা ইয়ুর্গেন ক্লপের মতো যুগবদলকারী কারিগরদের যুগের পর এক নতুন পরাবাস্তব যুগে প্রবেশ করছে ইংলিশ ফুটবল।
ডাগআউটে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া
লিগের এই নজিরবিহীন পালাবদলে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ক্লাবগুলো। আর্নে স্লটের বিদায়ের পর লিভারপুলের দায়িত্ব নিয়েছেন আন্দোনি ইরাওলা, আবার ব্রেন্টফোর্ড ছেড়ে ইরাওলার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মার্কো রোসে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পেপ গার্দিওলার বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানার পর সিটির নতুন সারথি হিসেবে এসেছেন এনজো মারেস্কা। চেলসিও লিয়াম রোসেনিওরের সংক্ষিপ্ত অধ্যায় পেরিয়ে বায়ার লেভারকুজেন মাতানো জাবি আলোনসোকে সঁপে দিয়েছে ব্লুজদের মূল চালিকাশক্তি।
এছাড়া বোর্নমাউথ, নটিংহ্যাম ফরেস্ট, ক্রিস্টাল প্যালেস, ফুলহ্যাম ও ইপসউইচ টাউনের মতো ক্লাবগুলোও পরিবর্তন এনেছে তাদের কোচিং প্যানেলে। এমনকি নিউক্যাসেল ইউনাইটেড এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো জায়ান্টরাও নতুন ডাগআউট নিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে তাদের পূর্ণাঙ্গ মৌসুম। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধেক লিগ জুড়ে চলছে এক নতুন ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধ।
যুগের অবসান ও নতুনদের লড়াই
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের পর এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগের কোনো মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে যেখানে ডাগআউটে থাকছেন না স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, আর্সেন ওয়েঙ্গার, হোসে মরিনহো, ইয়ুর্গেন ক্লপ কিংবা পেপ গার্দিওলার মতো কিংবদন্তিরা। এই পাঁচ মাস্টারমাইন্ড মিলে প্রিমিয়ার লিগের ৩৪টি শিরোপার মধ্যে জয় করেছিলেন ২৬টি। তাদের হাত ধরেই আধুনিক ইংলিশ ফুটবলের টেকটিক্যাল ও সায়েন্টিফিক বিপ্লব ঘটেছিল।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের সূত্রমতে, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বর্তমান চিত্র বিবেচনা করলে কোচদের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় স্থায়িত্ব পাওয়া কতটা কঠিন, তার বড় প্রমাণ মেলে একটি পরিসংখ্যানে; ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকা ডিয়েগো সিমেওনে ছাড়া ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের আর কোনো কোচই নিজ ক্লাবে এর চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে নেই।
এদিকে গার্দিওলা-ক্লপদের বিদায়ের পর আর্সেনালের মিকেল আর্তেতাই এখন লিগের দীর্ঘতম সময় ধরে টিকে থাকা কোচ, যিনি কিনা দায়িত্ব নিয়েছেন সাত বছরেরও কম সময় আগে। পেপ-ক্লপদের উত্তরসূরি হিসেবে আসা নতুন প্রজন্মের এই কোচদের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে দারুণ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যানেজার বদল বা তথাকথিত 'নতুন ম্যানেজার বাউন্স' তত্ত্ব সব সময় সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না; বরং ক্লাবের সার্বিক পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মানই আসল ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা স্মিথ বাবর আজমদের ব্যাটিং কোচ!