চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

২৫ ওয়ার্ডে মিলবে বিনামূল্যে বর্জ্য সেবা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কর্ণফুলী নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে একগুচ্ছ সমন্বিত উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক পদক্ষেপ বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে নগরীর ২৫টি ওয়ার্ডে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি শহরের যানজট কমাতে পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা চালু, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং ডেঙ্গু দমনে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নগর ভবনে চসিকের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির ১০ম সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
সভায় মেয়র জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহের বাইরে থেকে যাচ্ছে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অসচেতন নাগরিকরা যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন, যা নালা-নর্দমা ভরাট করে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে এবং কর্ণফুলী নদীর মারাত্মক দূষণ ঘটাচ্ছে। বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের জন্য নগরবাসীর কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। এতে বছরে হয়তো ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করবেন নগরবাসী। প্রতিদিন যদি অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা যায়, তবে ভবিষ্যতে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সবুজ শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মেয়র জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে একটি উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি জমি বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানো হবে। অন্যদিকে, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে যানজট কমানোর নতুন পথ খুঁজেছে চসিক। নিবন্ধিত প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বৈধ ও পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা নামানো হবে।

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র জানান, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্তমানে নগরীর কোতোয়ালী, বায়েজিদ, বন্দর, পাহাড়তলী, হালিশহর, বাকলিয়া ও আকবরশাহ এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত আধুনিক মশকনাশক দিয়ে সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ১৪টি বিশেষায়িত ফগার মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সেবার মান বাড়াতে চসিকের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের আওতাধীন বিদ্যমান ৬টি জোনকে ৮টি জোনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া, চসিকের নাগরিক অভিযোগ অ্যাপের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬৫টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ২৩৮টি সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। শহরের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয় সভায়। বৈঠক থেকে চসিকের শিক্ষা কার্যক্রমের শতবর্ষ পদার্পণ উপলক্ষে শতবর্ষ স্মারক প্রকাশনাসহ বিশেষ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত