কলম্বিয়ায় শপথ নিলেন ট্রাম্প সমর্থিত নতুন প্রেসিডেন্ট

দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটিকে ১০০ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এ অর্থের 'নিরাপত্তা প্যাকেজ' দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। 

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

কলম্বিয়ার শপথ নিয়েছেন নতুন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) শপথ অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারি ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেন। 

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটিকে ১০০ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এ অর্থের 'নিরাপত্তা প্যাকেজ' দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। শনিবার (৮ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করে। 

 
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই মাদকচক্রের বিরুদ্ধে 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' ঘোষণা করেন। পরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমন, দেশ পুনর্গঠন এবং 'প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে' গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার করেন।   

নিজেকে 'দ্য টাইগার' নামে পরিচয় দেওয়া ৪৮ বছর বয়সী এই আইনজীবী ও ব্যবসায়ী বলেন, তাঁর সরকারের অধীনে অপরাধীরা দেশের কোনো এলাকাতেই নিরাপদ বোধ করতে পারবে না। অপরাধ দমনে ‘লোহার মুষ্টি’ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া দে লা এসপ্রিয়েলার নীতির সঙ্গে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে ও ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের তুলনা করা হচ্ছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের নীতি তাঁর পূর্বসূরি বামপন্থি গুস্তাভো পেত্রোর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। পেত্রো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে 'পূর্ণ শান্তি' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং কৃষকদের কোকা চাষ থেকে সরে আসতে প্রণোদনা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তবে সমালোচকদের দাবি, এ নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা বেড়েছে। গত বছর কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তে প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। 

দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় এসে ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত 'শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস' নিরাপত্তা জোটে কলম্বিয়াকে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, নতুন সরকারের 'অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিবান্ধব' নীতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থি সরকারগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের সঙ্গে যেমন ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনি কলম্বিয়ার নতুন সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প দে লা এসপ্রিয়েলার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের 'পূর্ণ সমর্থন' থাকার কথা জানিয়েছিলেন এবং তাঁর জয়ের পর কলম্বিয়ার সঙ্গে 'অনেক ভালো সম্পর্ক' হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। অন্যদিকে পেত্রো ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকা নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং কলম্বিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। 

দে লা এসপ্রিয়েলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক জোট গড়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান পেত্রোর বিপরীত। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে পেত্রো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

দে লা এসপ্রিয়েলার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় বামপন্থি নেতৃত্ব আরও দুর্বল হলো। এর ফলে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার আঞ্চলিক রাজনৈতিক মিত্রও কমে গেল। একই সময়ে অক্টোবরের নির্বাচনে ব্রাজিলে ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে অঞ্চলটির রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত