প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মন্তব্য ও বিচার বিভাগ নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকার কিংবা বিমসটেকের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠনের দিনই একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সঠিক সময়ে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সকালে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল সাড়া দেবে।’

এছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সন্দেহভাজন আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য-প্রমাণ ও কাগজপত্র দিল্লিকে দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। আমরা তাদেরকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছি।’

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মন্তব্য ও বিচার বিভাগ নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভের একটি হলো বিচার বিভাগ। বাংলাদেশের একটি স্বাধীন আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। তার কোনো বক্তব্য থাকলে তা আদালতে এসে বলা উচিত। অথচ তিনি দেশের বিচার বিভাগকে হেয় করছেন এবং ভারত সরকার তাকে সেই সুযোগ দিচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, কোনো দেশের সরকারই যেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে হেয় করার সুযোগ না দেয়।’

হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার পর এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ ইন’ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর স্তরের আলোচনার পাশাপাশি নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত