যেভাবে সিভিল সার্ভিস থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে ইসমাইল জবিউল্লাহ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’তে সাবেক প্রভাবশালী আমলা ও বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায়) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক নজরে তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন--

জন্ম, পারিবারিক পটভূমি ও শিক্ষা জীবন:

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ১৯৫০ সালে তদানীন্তন নোয়াখালী জেলার (বর্তমান লক্ষ্মীপুর) রামগতি থানাধীন শান্তির হাট (চরকাদিরা) মোক্তারবাড়ীতে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম সুজাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমীর একজন স্বনামধন্য ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার লক্ষ্মীপুর সদর শমসেরবাদ গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। পিতামাতার তৃতীয় সন্তান ইসমাইল জবিউল্লাহ ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসাধারণ মেধার সাক্ষর রাখেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯৬৫ সালে লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমি থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। ১৯৬৭ সালে লক্ষ্মীপুর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় একই বোর্ডের মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৭১ সালের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা, যা ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়, থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষায়ও প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের এডিবি ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের প্রথম ব্যাচের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ১৯৬৭ সালে হল ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। ছাত্রজীবন থেকেই বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পত্রিকা প্রকাশনা এবং বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। স্বাধীনতার পর লক্ষ্মীপুরে ‘কাকলি’ ও ‘ত্রিধারা’ নামে দুটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার প্রসারে অধ্যাপক ননী গোপাল ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ত্রিধারা শিক্ষা নিকেতন’, যা দীর্ঘদিন জেলার প্রথম দিকের ব্যতিক্রমধর্মী কিন্ডারগার্টেন হিসেবে পরিচিত ছিল। নাটক, আবৃত্তি, স্মরণিকা প্রকাশ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বাংলা নববর্ষ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মজয়ন্তী উদযাপনসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।


শিক্ষকতা ও সিভিল সার্ভিসে পদার্পণ:

১৯৭৩ সালে চৌমুহনী কলেজে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন। একই সময়ে তিনি চন্দ্রগঞ্জ কফিলউদ্দিন কলেজে খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত নোয়াখালী সরকারি কলেজে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৭৭ সালে সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্ট্রেট) পদে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামে কর্মজীবন শুরু করেন।

প্রশাসনিক ও বিচারিক কর্মজীবন:

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সততা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ম্যাজিস্ট্রেট ও সামরিক আইন আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ২০০২ সালে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার কারণে ভূঞাপুর ও ফরিদপুরে তাঁর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এখনও স্মরণ করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তাপুষ্ট ‘প্রমোট’  প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় নারী শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা:

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে শ্রম কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি, যা বাংলাদেশের শ্রম রপ্তানির একটি উল্লেখযোগ্য সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি চীন সফরেও তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ২০০৩-২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সদস্য, সুইডেনের মালমোতে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির গভর্নর এবং ২০০৪-২০০৬ সালে জেদ্দায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিকল্প গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া জাতিসংঘ, ওআইসি, কমনওয়েলথ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং এ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন।

শিক্ষা, ব্যাংক ও আর্থিক খাত পরিচালনা:

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পরও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক, নীতি নির্ধারণী ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড  এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি লিমিটেড এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক, আইসিডিডিআর,বির বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর এবং আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনের মোতাওয়াল্লী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১-২০২২ সালে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও তেজগাঁও উইমেনস কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ অ্যালামনাই সোসাইটির সভাপতিও।

বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির নীতি নির্ধারণী কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০২৬-এর প্রধান সমন্বয়ক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। একই সময় থেকে বিএনপির গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গবেষণা প্রধান এবং সাবেক আমলাদের সংগঠন ‘পলিসি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সোসাইটি’এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির নীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন-২০৩০, তারেক রহমান ঘোষিত ২৭ দফা, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সংস্কার কার্যক্রমেও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জুলাই সনদ প্রণয়নসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারবিষয়ক ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন তিনি। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারসংক্রান্ত দলীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনেও মামলার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা রয়েছে। এক-এগারোর সময় তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয় বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাইকোর্ট ওই মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেন। এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ছয়টি ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন ও সমাজসেবা:

মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ তাঁর দীর্ঘ কর্মকালে, শিক্ষক অথবা সরকারী কর্মকর্তা যেখানেই ছিলেন, ঈর্ষনীয়  প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর দরদী হাতে গড়া ছাত্রদের অনেকেই আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বলা অপেক্ষা রাখে না যে এ সকল ছাত্রদের সিংহভাগই ছিল নোয়াখালী ও লক্ষীপুরের অধিবাসী। সরকারী চাকুরী কালে তিনি সততা, নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি আইনের আওতায় থেকে বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজ জেলার উন্নয়নে সক্রিয় ছিলেন। এলাকার শিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক ব্যক্তিকে তিনি বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন যারা আজও তাঁকে কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে। তিনি যেখানেই ছিলেন এলাকাবাসী তাঁর নিকট গিয়ে কোনদিন না শুনেননি। নিজের অফিসে কিংবা অন্য কার্যালয়ে এলাকাবাসীর যে কোন ন্যায্য কাজ তিনি খুব দ্রুত সম্পাদন করে দিয়েছেন মর্মে সুখ্যাতি রয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন তিনি সারা দেশের যোগাযোগ উন্নয়নের সাথে সাথে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিশেষ করে লক্ষীপুর জেলায় সড়ক ও সেতু উন্ন্য়নের কাজ করেছেন। এলাকার এতিমখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান ইত্যাদি সমাজসেবামূলক কাজের সাথে তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রজ্ঞা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং নীতি নির্ধারণী প্রতিভার এক বিরল সম্মিলন ঘটেছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর বর্ণাঢ্য জীবনে। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’তে তাঁর অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে দল ও দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নীতি নির্ধারণে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সকলের প্রত্যাশা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত