ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট। নিজেদের মাঠে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে টাইগারদের কাছে এমন অপ্রত্যাশিত হার মেনে নিতে পারছেন না রিকি পন্টিং, মার্ক ওয়াহ ও ম্যাথু হেইডেনের মতো সাবেক অজি তারকারা। অন্যদিকে, অজুহাত না তুলে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স খোলাখুলি স্বীকার করেছেন—ম্যাচের তিন বিভাগেই স্বাগতিকদের চেয়ে বহুগুণ ভালো খেলেছে বাংলাদেশ।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই পারফরম্যান্সকে রিকি পন্টিং "অত্যন্ত লজ্জাজনক" হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর সাবেক তারকা মার্ক ওয়াহ এটিকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসেই "সবচেয়ে বড় অঘটন" বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসেই ২০০ রানের বিশাল লিড তুলে নেয় টাইগাররা। জবাবে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া মাত্র ৫৭ রানের জয়ের লক্ষ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেট হারিয়ে খুব সহজেই টপকে যায় ফর্মের চূড়ায় থাকা বাংলাদেশ।
মার্ক ওয়াহ এই পরাজয়ে ক্ষোভ ও বিষাদ প্রকাশ করে বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমার দেখা এটিই হয়তো সবচেয়ে বড় অঘটন। কয়েক বছর আগে গ্যাবায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের ঘটনাটি অঘটন ছিল, কিন্তু এটি আরও বড়। কারণ বাংলাদেশের সেরা দুই বোলার—নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম না থাকা সত্ত্বেও এবং অস্ট্রেলিয়া পূর্ণশক্তির দল নিয়ে নামার পরও এমন ফল সত্যিই অবিশ্বাস্য।"
একাদশ ও ব্যাটিং অর্ডার বদলের দাবি
অজিদের টানা ব্যর্থতায় একাদশে পরিবর্তন আনার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। চ্যানেল সেভেন-কে তিনি বলেন, "আমি সহজে দল পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলি না। কিন্তু টানা ব্যর্থতার পর এখন স্পষ্ট যে ওপেনিং ও ৩ নম্বর পজিশনে নতুন মুখ আনা জরুরি। দল পুনর্গঠন শুরু করলে অজিদের হারানোর কিছু থাকবে না।"
একই সুর সাবেক ওপেনার হেইডেনের কণ্ঠেও। ব্যাটিং অর্ডার পুনর্বিন্যাসের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "ট্রাভিস হেডের জন্য ওপেনিং সেরা জায়গা নয়, তাকে ৫ নম্বরে ব্যাট করানো উচিত। ড্রেসিংরুমের এই অস্থিরতা কাটাতে হলে হয় ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের খেলাতে হবে, না হয় স্যাম কনস্টাসের মতো নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দিতে হবে।"
প্রথম টেস্টের এই লজ্জাজনক হারের পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও আভাস দিয়েছেন, দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।