এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড, ১৩ লাখ আবেদন

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় রেকর্ড ১৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। এ পরিস্থিতিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

এ ব্যাপারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মনে হচ্ছে সবাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে চায়। এমনকি জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও অনেকে খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে। কারণ ভবিষ্যতে পড়ালেখায় নম্বর মূল্য যোগ করে।

তাই নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, এতদিন পুনর্নিরীক্ষণের সময় চারটি বিষয় যাচাই করা হতো। এগুলো হলো-সব প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল ঠিক আছে কি না, খাতার ভেতরের নম্বর মূল কভার বা ওএমআর শিটে সঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না এবং ওএমআর শিটে নম্বর অনুযায়ী বৃত্ত ঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না।

এই চারটি ধাপে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে নতুন ফল প্রকাশ করা হতো। তবে এতদিন উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়নি।

নতুন পদ্ধতিতে এবার পুনর্নিরীক্ষণের পুরো খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে আবার যাচাই ও মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য নম্বর পেয়েছে কি না, তা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত এসএসসির ১৩ লাখের বেশি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে। গতকাল রাত ১২টায় আবেদনের সময় শেষ হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়।

গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে ভুল নম্বর দেওয়া হলে বা প্রাপ্য নম্বর না দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেছিলেন, আগে রিভিউয়ের ক্ষেত্রে মূলত ট্যাবুলেশন শিট দেখা হতো। শিক্ষার্থীর খাতা পুনরায় দেখে শিক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। এবার আইনগতভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত