গাজার জন্য জোলির মানবিক আহ্বান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে শীত আসার আগেই সেখানকার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

শনিবার ইনস্টাগ্রামে গুগল আর্থের যুদ্ধের আগে ও পরের কয়েকটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেন জোলি। এসব ছবিতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও ভবনের কোনো চিহ্ন নেই, কোথাও দেখা যাচ্ছে শুধু খালি জমি ও ধ্বংসস্তূপ। সড়ক, মসজিদ ও স্কুলের আশপাশেও ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্ট।

জোলি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী করা হয়েছে, তা দেখা যাচ্ছে। ঘরবাড়ি, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাসহ মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট কেন্দ্রের একটি মূল্যায়নের তথ্যও তুলে ধরেছেন তিনি। এতে বলা হয়েছে, ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।

শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানুষের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন জোলি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজার ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রয়োজন। অর্থাৎ উপত্যকাটির ৯৪ শতাংশ বাসিন্দারই সহায়তা দরকার। তবে ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির উপকরণ পৌঁছাতে নানা বাধা ও বিলম্ব হচ্ছে।

জোলি বলেন, স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানুষের জীবন কেমন, তা এসব ছবিতে বোঝা যায় না। নিহত পরিবারগুলোর কী হয়েছে কিংবা যারা বেঁচে আছেন, তাঁদের জীবন এখন কেমন—সেটিও এসব ছবিতে দেখা যায় না।

বেসামরিক মানুষের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা ও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও জনপদ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরির কথাও বলেছেন জোলি।

ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন জোলি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসর সফরের সময় রাফাহ সীমান্তের মিসরীয় অংশ পরিদর্শন করেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে শরণার্থী ও সংঘাতে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য কাজ করা জোলি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার শুভেচ্ছাদূত ও পরে বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ওই দায়িত্ব ছাড়েন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত