হত্যা নাকি দুর্ঘটনা?

রেললাইনে মিলল বিসিএস কৃষি কর্মকর্তার দ্বিখণ্ডিত মরদেহ

৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত তানভীরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

নীলফামারীর ডোমারে রেললাইনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মীর তানভীর আহমেদ (২৯)। তিনি দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের গম গবেষণা কেন্দ্রের খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলী সংলগ্ন রেলগেট এলাকা থেকে তানভীরের গলা থেকে বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার দ্বিখণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে স্বজনেরা সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহটি চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করেন।

নিহত তানভীরের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। তার বাবা মীর বজলুর রশিদ জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। তানভীর ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় ছেলে। তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পড়াশোনা শেষ করে তানভীর দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের গম গবেষণা কেন্দ্রের খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের ফলাফলে তিনি কৃষি ক্যাডারে যোগদানের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

তানভীরের বাবা মীর বজলুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, তাদের পরিবারে কোনো কলহ ছিল না। তবে দিনাজপুরে কর্মরত থাকার সময় তানভীর সেখানকার কয়েকজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ওই বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত