আল্লাহর ঘর মসজিদ। সেখানে নামাজের জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানানোকে দায়িত্ব ও ইবাদত হিসেবে নিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মো. হোসেন আলী (৬৫)। প্রায় এক যুগ ধরে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক ছাড়াই তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিয়ে আসছেন। শুধু আজান দেওয়াতেই থেমে নেই তার সেবা, নিজের উদ্যোগে মসজিদ ঝাড়ু দেওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজও তিনি করেন।
হোসেন আলী উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের গায়েনমোড় এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে গায়েনমোড় এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে আজান দিয়ে মুসল্লিদের নামাজের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিনিময়ে কখনও বেতন বা পারিশ্রমিক দাবি করেননি তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গায়েনমোড় এলাকার পূর্ব নাম ছিল ‘পাইনার বাইদ’। ছোটচওনা ও বড়চওনার মধ্যবর্তী এ এলাকাটি কাকড়াজান ও বড়চওনা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থিত। এ এলাকাতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা হোসেন আলীর।
হোসেন আলীর বাবা মোহাম্মদ আলী এবং মা মোছা. শাহাতন নেছা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের হোসেন আলী একসময় টুকটাক ব্যবসা করলেও বর্তমানে তার কোনো ব্যবসা নেই। মসজিদকেন্দ্রিক সেবাই এখন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
বিনা পারিশ্রমিকে এত দীর্ঘ সময় ধরে আজান দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হোসেন আলী বলেন, মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর। আমি পাঁচ ওয়াক্ত আজান দিয়ে মানুষকে আল্লাহর ঘরে নামাজের জন্য ডাকি। এটা আমার কাছে সওয়াবের কাজ। এখানে বেতন বা পারিশ্রমিকের কোনো হিসাব করি না। একজন মুসলমান হিসেবে আল্লাহর হুকুম পালন করা আমার দায়িত্ব, আর সমাজের একজন মানুষ হিসেবে এটাকে আমি কর্তব্য মনে করি।
তিনি আরও বলেন, আমি না করলে হয়তো অন্য কেউ এই দায়িত্ব পালন করত। মহান আল্লাহ আমাকে দিয়ে আজান দেওয়ার কাজটি করাচ্ছেন, এটাই আমার সৌভাগ্য। আজান দিয়ে আমি এক ধরনের শান্তি ও তৃপ্তি পাই। মনে আনন্দ নিয়েই কাজটি করি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই সেবা করে যেতে চাই।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই হোসেন আলী মসজিদের আজান দেওয়া, ঝাড়ু দেওয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছেন। তার এই নিঃস্বার্থ সেবার কারণে তিনি এলাকাবাসীর কাছে আলাদা সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছেন।
মসজিদের সঙ্গে হোসেন আলীর দীর্ঘদিনের এই সম্পৃক্ততা এখন শুধু দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং এটি হয়ে উঠেছে তার দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থের বিনিময়ে নয়, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির আশায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার এই গল্প স্থানীয়দের কাছেও অনুপ্রেরণার।