বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে রাখার সুযোগ নেই: ত্রিবেদী

বৈঠকে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসার এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড) জোরদার করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাইকমিশনার। 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অতীতে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে যৌথ উন্নয়নের স্বার্থে উভয় দেশকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিবেশী হিসেবে দু'দেশের মধ্যে নানা মাত্রা ও ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেগুলোকে যথাযথভাবে অনুধাবন ও বিবেচনায় নিয়ে একসঙ্গে পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনা চলাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে দলকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

পরে ব্রিফিংকালে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দ্বিপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ইতিহাস বা অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়, তবে অতীতের কোনো বিশেষ ঘটনায় আটকে থাকলে দুই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তের কারণে দু'দেশের দায়িত্ব অপরিসীম। ভারত সব সময় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাসী, যেখানে কেউ বড় বা ছোট নয়।

বাংলাদেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভৌগোলিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অন্য দেশের প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূতের কোনো কথা বলা উচিত নয়। নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার এবং দেশটির সাধারণ জনগণই সবচেয়ে ভালো বলতে পারেন এবং অনুধাবন করতে পারেন যে তাদের নিজেদের দেশের ও সার্বিক কল্যাণের জন্য ঠিক কোনটি প্রয়োজন।

বৈঠকে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসার এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড) জোরদার করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, যেকোনো শীর্ষপর্যায়ের সরকারি সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর, তাই সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই উভয় দেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ভারতীয় দূত একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে।

আলোচনায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে চলতি অর্থবছরেই লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে ভারতীয় প্রতিনিধিকে অবহিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত