সিরিজের প্রথম চারদিনের ম্যাচে ছিলেন না তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই ব্যাট হাতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন দুজন। দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২০১ রান করেছে বাংলাদেশ 'এ' দল।
আজ তৃতীয় দিনে অবিচ্ছেদ্য ছুটিতে সে রান আরো বাড়িয়ে নিচ্ছেন দুই ব্যাটার। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে হৃদয় সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ৮ রানের অপেক্ষায় আছেন জাকের।
পচেফস্ট্রুমে আজ প্রথম সেশনে হৃদয়-জাকের জুটিতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮২ রান তুলেছে বাংলাদেশ 'এ' দল। সব মিলিয়ে ২৮৩ রান নিয়ে দিনের দ্বিতীয় সেশন শুরু করবেন দুজন। হৃদয় ১১০ ও জাকের ৯২ রানে ব্যাটিংয়ে নামবেন। এই মাঠে দারুণ স্মৃতি আছে হৃদয়দের। ২০২০ সালে এখানেই ভারকে হারিয়ে প্রথমবার যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ দল।
৪ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিন শুরু করে প্রোটিয়ারেয়া। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার সিনেথেম্বা কেশিলে অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১১১ রানের সঙ্গে আরও ১৭ রান যোগ করার পর রেজাউর রহমান রাজার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ডেলানো পটগিটারও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৪ রান করা এই ব্যাটারকে আউট করেন নাঈম হাসান। তবে এরপর গ্যাভিন ক্যাপলান ও কাইল সিমন্ডসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা।
শতকের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে থামতে হয় ক্যাপলানকে। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে ৯৭ রানে হাসান মুরাদের বলে বোল্ড হন তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের রানকে পাঁচ শ-এর ওপরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন সিমন্ডস। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড় তোলেন সিমন্ডস। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই পাঁচশ পেরিয়ে যায় স্বাগতিকদের স্কোর। শেষ পর্যন্ত ৫১২ রানে থামে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাঈম হাসান ৪টি এবং হাসান মুরাদ ৩টি উইকেট নেন।
এরপর নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। মাহমুদুল হাসান জয় ৯ এবং পারভেজ হোসেন ইমন মাত্র ৫ রান করে ফিরলে শুরুতেই চাপে পড়ে দল। এরপর মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও হৃদয় তৃতীয় উইকেটে ৩৯ রান যোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৩৪ রান করে নাঈম শেখ আউট হলে ভেঙে যায় সেই জুটি। এরপর আফিফ হোসেনকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ২৯ রান করে আফিফের বিদায়ে ফের বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
সেখান থেকে জাকেরকে নিয়ে পাল্টা লড়াই শুরু করেন হৃদয়। দিনের শেষ সেশনে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি তারা। পঞ্চম উইকেটে ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেন দুই ব্যাটার। আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই দুজন।