১০ নম্বর জার্সিটির গুরুত্ব ও ওজন সব সময়ই আলাদা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে এই আইকনিক জার্সিটি বিশ্ব ফুটবলের দুই ঈশ্বর—ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির সমার্থক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ৩১ আগস্ট জাতীয় দল থেকে মেসির অবসর ঘোষণার পর একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে: আলবিসেলেস্তেদের এই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিটি এবার কে পরবেন?
লিওনেল স্কালোনির নতুন দলে খেলার ধরন অনুযায়ী মেসির পজিশনে প্রথম পছন্দ নিকো পাজ। ইতালির ক্লাব কোমো ১৯০৭-এর হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই তরুণকে স্কালোনি তাঁর ভবিষ্যৎ ভাবনায় গভীরভাবে রেখেছেন। সেদিক থেকে জার্সিটির স্বাভাবিক দাবিদার তিনি।
তবে ১০ নম্বর জার্সির রেসে আরও কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন:
-
থিয়াগো আলমাদা ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচে আলমাদার এই ১০ নম্বর পরার কথা ছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তে রিভার প্লেটের তরুণ ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন।
-
অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ: লিভারপুলে ১০ নম্বর পরেন ম্যাক অ্যালিস্টার, যিনি জাতীয় দলের খেলার স্টাইলেও বেশ মানানসই। অন্যদিকে এনজো ফার্নান্দেজ এবং ভক্তদের প্রিয় হুলিয়ান আলভারেজের নাম আলোচনায় থাকলেও তাঁরা যথাক্রমে ২৪ ও ৯ নম্বরের সাথে বেশি পরিচিত।
-
বাতিল তালিকা: পূর্বে এই জার্সি পরা পাওলো দিবালা বা আনহেল কোরিয়া ২০৩০ বিশ্বকাপের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় আর বিবেচনায় নেই।
জার্সি তুলে রাখার ইচ্ছা ও ফিফার নিয়ম
২০২৪ সালে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও 'চিকি' তাপিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, মেসির অবসরের পর ১০ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখা হবে। কিন্তু ফিফার নিয়মের কারণে তা অত্যন্ত জটিল।
ইতিহাস বলছে, ২০০১ সালে ডিয়াগো ম্যারাডোনাকে সম্মান জানাতে তৎকালীন সভাপতি হুলিও গ্রোন্দোনা একইভাবে ১০ নম্বর জার্সি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ২০০২ বিশ্বকাপে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—প্রতিযোগিতায় ১ থেকে ২৩ নম্বর পর্যন্ত পর পর জার্সি রাখতে হবে। ফলে সেবার বাধ্য হয়ে এরিয়েল ওরতেগাকে ১০ নম্বর পরতে হয়েছিল।
১৯৯৪ সালে মারাদোনার নিষেধাজ্ঞার পর যেমন মার্সেলো এসপিনা কিংবা ২০০২ সালে ওরতেগাকে এই ভারী পোশাকের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল, তেমনি এবারও মেসির পর নতুন কোনো কান্ডারিকে খুঁজে নিতেই হবে আর্জেন্টিনা ফুটবলকে।