সাভারে রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় আবারও যুক্তিতর্ক শুনবে আদালত। আগামী ৬ অক্টোবর যুক্তিতর্কের শুনানি হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে উত্তোলন করে পুনরায় যুক্তিতর্কের সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় একই আদালত তা পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর (গতকাল) নতুন তারিখ ধার্য করেছিলেন।
এ মামলার আট আসামি হলেন— ভবন মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।
আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন। তারা আদালতে হাজিরা দেন।
মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। ওই ভবনে থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানার প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক ভবনের নিচে চাপা পড়েন। কয়েক দিনের উদ্ধার তৎপরতায় ১ হাজার ১৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত ও পঙ্গু হন।
ঘটনার পরপরই ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় এ মামলাটি করেন।
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মোট ১৮ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জনের সাক্ষ্য নেন।
ভবন মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে।