জাপানি ও ব্রিটিশ কোম্পানির বিনিয়োগ পাচ্ছে স্টার্টআপ ‘ওয়াইজারগেটস’

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

আর্থিক ও প্রযুক্তি খাতের বাংলাদেশি স্টার্টআপ ওয়াইজারগেটস টেকনোলজিস লিমিটেড জাপান ও যুক্তরাজ্যের কোম্পানির বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ফিনটেক স্টার্টআপটি সম্প্রতি আরব আমিরাতের দুবাইতে কার্যক্রম শুরুর অনুমোদনও পেয়েছে।

কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা বলছেন, দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের (ডিআইএফসি) অধীনে নিবন্ধিত কোম্পানিটি সম্প্রতি তিন কোটি ডলার সক্ষমতার আর্থিক মূল্যায়নে তাদের প্রাক-প্রাথমিক তহবিল উন্মুক্ত করেছে; যেখানে প্রধান বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে জাপান ও যুক্তরাজ্যের দুই কোম্পানি থেকে।

বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ওই দুই কোম্পানি হল— টোকিওভিত্তিক নিউভিশন জাপান কো লিমিটেড এবং লন্ডনভিত্তিক ওয়ান সিএস হোল্ডিংস লিমিটেড।

ওয়েলথ ফিনটেক বা ওয়েলথটেক কোম্পানি বলতে এমন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে মানুষের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং আর্থিক পরিকল্পনা সহজতর করে।

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন দুই উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রেফায়েত চৌধুরী ও নাজিবুর রহমান।

দুবাইয়ে কার্যক্রম শুরু ও বিনিয়োগ পাওয়ার খবর দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ওয়াইজারগেটস একটি গর্বের বাংলাদেশি উদ্ভাবন; যা এখন বিশ্বব্যাপী পরিসরে যাত্রা শুরু করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্লাটফর্ম হচ্ছে ‘ন্যানো অ্যাসেটস’। এর মাধ্যমে ছোট ছোট বিনিয়োগকে এক করে লাভজনক ও নিয়মিত আয় করে এমন ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা কৃষি, লন্ড্রি, রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, জিম, কমোডিটি ট্রেডিংসহ বিভিন্ন খাতের লাভজনক ও আয় সৃষ্টিকারী ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ পান।

২০২২ সালে চালু হওয়া এ কোম্পানি এ মডেল ব্যবহার করে বেশ সাফল্য পাওয়ার দাবিও করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি বলছে, গত পাঁচ বছরে ১০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সম্পদ শ্রেণিতে ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে।

তাদের ব্যবহৃত মডেলটি মূলত ‘প্রাইভেট ইকুইটি টোকেনাইজেশন মডেল’। যেখানে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি একটি ব্যবসার ক্ষুদ্র অংশ কিনে লভ্যাংশ ও মুনাফা অর্জনের অংশীদার হতে পারেন। অন্যদিকে উদ্যোক্তারাও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত বিনিয়োগকারীদের থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথ্য বলছে, দেশটিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৫ লাখ ৫৭ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ বাজারকে সামনে রেখে দুবাইয়ে বিনিয়োগের চিন্তা করেন বাংলাদেশি দুই উদ্যোক্তা। পরে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিদেশেও বিনিয়োগ করার সুযোগ দিলে তা কাজে লাগায় ওয়াইজারগেটস বলে তুলে ধরেন এক উদ্যোক্তা।

এ সুযোগের আওতায়, যেকোনো স্টার্টআপ কোম্পানি বিদেশে কোম্পানি গঠনের জন্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠাতে পারবে।

ওই সার্কুলারে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭ এর অধীনে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি কোম্পানি ব্যাংকে আবেদন করে বিদেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার জন্য ওই পরিমাণ অর্থ পাঠাতে পারবে।

সাকুর্লার অনুযায়ী, ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের একই পদ্ধতিতে বিদেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের উদ্ভাবনী ধারণা থাকতে হবে; যা বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণসহ পরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও আয় নিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের সুবিধা নিয়ে ওয়াইজারগেটস দুবাইয়ে বিনিয়োগ করে। প্রতিষ্ঠানটি দুবাইয়ের ডিআইএফসিকে আইডিয়া তুলে করলে, তারা প্রতিষ্ঠানটিকে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির সব অফিস চালু রেখে অনলাইনে কার্যক্রম চালু রাখলেও এখন দুবাইতেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়। সেখানে চার সদস্যের একটি দল কাজ করছে বর্তমানে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য নিয়ে সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেফায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট। স্বল্প স্বল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে সবার জন্য সম্পদ, উৎপাদনশীল সম্পত্তির মালিকানা এবং আর্থিক সাক্ষরতা নিশ্চিত করা।

কারণ আমরা মনে করি, আর্থিক সাক্ষরতা কোনো বিলাসিতা বা কারও কারও জন্য সংরক্ষিত সুবিধা নয়; এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। বিশ্বজুড়ে এখনও সাধারণ মানুষরা ভবিষ্যতে যেসব সম্পদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সেসব এবং উৎপাদনশীল সম্পদগুলোর মালিকানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি বদলাতে হবে।’

দুবাইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারেও প্রবেশ করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন ওয়াইজারগেটসের উদ্যোক্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করা রেফায়েত চৌধুরী দেশে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাঁচ বছরের বেশি সময় বাংলাদেশে বহুজাতিক একটি ব্যাংকে কাজ করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নাজিবুর রহমানও আইবিএ এর শিক্ষার্থী। তিনিও কয়েকটি স্টার্টআপ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বহুজাতিক একটি টেলিকম কোম্পানিতে বাংলাদেশে তিন বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত