দুর্দান্ত ২৭০ রানের ইনিংসে রমন লাম্বার স্মৃতি ফেরালেন ইশান কিশান

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ভারতের দুলিপ ট্রফির ফাইনালে ইশান কিশানের ২৭০ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংসে রেকর্ড পাতায় নতুন করে উঠে এসেছে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের এক ট্র্যাজিক বীরের নাম—রমন লাম্বা। আজ সোমবার চেন্নাইয়ের চিপকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যশস্বী জয়সওয়ালের ২৬৬ রান টপকে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন ইশান্ত। তবে ৫১ রানের জন্য ভাঙতে পারেননি ১৯৮৭ সালে নর্থ জোনের হয়ে গড়া রমন লাম্বার সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চমকপ্রদ অভিষেকের পর ১৯৮৭ সালে ভারতের মাটিতে যখন বিশ্বকাপ হচ্ছিল, ঠিক তখন জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়ার আক্ষেপে দুলিপ ট্রফিতে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন রমন লাম্বা। ৭২০ মিনিট উইকেটে টিকে থেকে ৪৭১ বলে ৩০টি চার ও ৬টি ছক্কায় করা তার সেই ৩২০ রান আজও দুলেপ ট্রফির ইতিহাসে একক সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হিসেবে অক্ষত।

ভারতের হয়ে ৪টি টেস্ট ও ৩২টি ওডিআই খেললেও লাম্বার আসল সামর্থ্য প্রকাশ পেয়েছিল ঘরোয়া ক্রিকেটে। ৮,৭৭৬ প্রথম শ্রেণির রান, ৩১টি শতক, ২টি ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং ৩৭ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে ১,০৩৪ রানের মৌসুম তারই প্রমাণ বহন করে।

ভারতী দল থেকে বাদ পড়ার পর লাম্বার ক্রিকেটিং ক্যারিয়ারে এক নতুন জীবনের উন্মোচন ঘটেছিল বাংলাদেশে। নব্বইয়ের দশকে ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নাম হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে মোহামেডানের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্রীড়া চক্রের হয়ে মাঠে নামাই তার জীবনের ট্র্যাজেডি ডেকে আনে।

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিং করার সময় মাত্র ৩ বল বাকি থাকায় হেলমেট পরা ছাড়া ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। মেহরাব হোসেন অপির শটে বল সজোরে এসে তার মাথায় আঘাত করে। আঘাত এতই প্রবল ছিল যে বলটি ছিটকে গিয়ে উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদ পাইলটের গ্লাভসে জমা পড়ে। মাঠ থেকে হেঁটে ড্রেসিংরুমে ফিরলেও দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তিনি কোমা চলে যান। তিন দিন পর, ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ সালে ঢাকার হাসপাতালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তারকা ব্যাটার।

 
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত