আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন খলিলুর রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের এই কূটনৈতিক অর্জনকে দেশের জন্য এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু সংকট ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার এই কঠিন সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বোচ্চ পদে বসছেন কোনো বাংলাদেশি কূটনীতিক। জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি এক বছর মেয়াদী এই দায়িত্ব পালন করবেন। খবর বাসস’র। 

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ ফিরে পেল বাংলাদেশ।
 
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। এশিয়া-প্যাচাফিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত এই পদে গত ২ জুন গোপন ব্যালটে ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পান ৯১ ভোট।
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের এই কূটনৈতিক অর্জনকে দেশের জন্য এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই নির্বাচনকে ‘অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত’ অভিহিত করে জানান, দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরে আসায় এবং স্থিতিশীলতা অর্জিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে।
 
তিনি বলেন, জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর কাছে ড. খলিলুরের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাদার দক্ষতার পাশাপাশি বিশ্বের ৮১টি দেশে বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তাদের প্রচারণাও এই জয়ে ভূমিকা রেখেছে। এই পদ প্রাপ্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অগ্রাধিকার ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি এই বৈশ্বিক পরিচিতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির এই অর্জনকে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘের সভাপতিকে নিরপেক্ষভাবে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সেবা করতে হয়। তাই সঠিক কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
 
তিনি এর আগে জয়ের প্রতিক্রিয়ায় ড. খলিলুর রহমান বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা ও জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে এর কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যে রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়ন। তাছাড়া তার এই মেয়াদকালেই বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ ড. খলিলুর রহমান এর আগে নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও উন্নয়ন অর্থনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মতপার্থক্য দূর করতে সাহায্য করবে। চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠাতব্য উচ্চপর্যায়ের সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন। সেখানে একজন বাংলাদেশির বিশ্বসংস্থার নেতৃত্বদান দেশের ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত