বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামের নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনে সংসদে আইন পাস হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে স্পিকার মির্জা হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা ভোটে দেন। এর পাশাপাশি ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এতদিন ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল র্যাব। আইনগত ত্রুটি ও পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সময়োপযোগী পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূর করে আইনটিকে সম্পূর্ণ বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।’
পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, এসআরবি সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। প্রেষণ ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে গঠিত এই বাহিনীর নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও স্বতন্ত্র পোশাক থাকবে। একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) বা তার চেয়ে উচ্চপদের কর্মকর্তা মহাপরিচালক হিসেবে বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন।
অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং জফতের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এসআরবিকে। কাজের সুবিধার্থে ইউনিটটির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে বা সার্বিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও জঙ্গিবাদ দমনে ২০০১-০৬ মেয়াদের তৎকালীন বিএনপি সরকারের পরিকল্পনায় গঠিত এ বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ আত্মপ্রকাশ করে এবং ওই বছরের ২১ জুন পুরোদমে যাত্রা শুরু করে। তবে দুই দশকের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাহিনীটি চরমভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়ে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সমালোচকদের কাছে এটি একসময় ‘সরকারি ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন এবং কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার ঘটনায় দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় সংস্থাটি।
এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর র্যাবের সাবেক ও বর্তমান ৬ কর্মকর্তার ওপর নিষোধাজ্ঞা আরোপ করে। অবশেষে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন সংস্কার ও জবাবদিহির অধীনে এসআরবি হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বিশেষায়িত এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব বিলুপ্ত বিলের ৮ বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত
র্যাবকে গুম খুন ক্রসফায়ার থেকে দূরে থাকতে হবে