আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

আলজেরিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির একাধিক ‘উসকানিমূলক বা বৈরী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঠিক কী কারণে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি আলজেরিয়া। খবর রয়টার্সের। 

আলজেরিয়ার ঘোষণার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত ‘যুক্তিবোধ, যোগাযোগ ও স্বার্থের স্পষ্টতা’। এমন কোনো ইঙ্গিত বা ধাঁধার ওপর কূটনীতি নির্ভর করা উচিত নয়, যার অর্থ বুঝতে আলাদা করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।

গত কয়েক বছরে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়েছে। আলজেরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা করা হচ্ছে। দেশটি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় নয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তারা ‘সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে’ বলেও জানানো হয়েছে।

গারগাশ তাঁর বক্তব্যে সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি এবং তাঁর মন্তব্যকে দেশটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তও করেননি। তবে তিনি বলেন, সফল কূটনীতির জন্য অবস্থান স্পষ্ট রাখা এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মতবিরোধ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানও ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

দুই দেশের মধ্যে পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন করে এবং সেখানে তাদের একটি কনস্যুলেটও রয়েছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে।

সাহেল অঞ্চলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের স্বার্থ ক্রমেই পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে। এ অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। বিপরীতে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে তাদের কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন গত বছর বলেছিলেন, উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক উষ্ণ, তবে একটি দেশের সঙ্গে নয়। তাঁর এ বক্তব্যকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

তেবুন সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সময়ে নাম না করে একটি দেশকে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ করেন।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত বিমান চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত