মক্কার কাছে হুথিদের ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।

আল-মালিকির দাবি, ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুথি কর্মকর্তারা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সৌদি অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। হুথি-নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে তার এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করে হুথিরা জানায়, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি জোটের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।

এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পরিবহন অবকাঠামো ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার জন্য ইরানপন্থী ইরাকি একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে রিয়াদ। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদির উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর এটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প তেল রপ্তানি পথ হয়ে উঠেছে।

হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ব্যাহত হতে পারে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কবে পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে তা জানায়নি। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট অবশ্য মঙ্গলবার বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পাইপলাইন দিয়ে অপরিশোধিত তেল প্রবাহ শুরু হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরবকে আরও গভীরভাবে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। একই সময়ে লোহিত সাগরের উপকূলে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সাল থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিরতির কারণে সংঘাত অনেকটা স্তিমিত থাকলেও চলতি মাসে ইয়েমেন সরকারের সমর্থক বাহিনীর বিরুদ্ধে হুথিদের নতুন অভিযানকে কেন্দ্র করে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা মূলত গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত