১৯৬০ সালে আন্ধারমানিক নদীর তীরে গড়ে ওঠে বৃহত্তর ৪ নম্বর মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন। ইউনিয়নের নাম যে গ্রামের নামে, সেই মিঠাগঞ্জের গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক এখনো পাকা হয়নি। এমনকি নেই ইটের সলিংও।
বর্ষা এলেই সড়কটি পরিণত হয় কর্দমাক্ত পথে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকসহ কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বর্ষার কয়েক মাস ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটু সমান কাদা জমে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সড়কটি ব্যবহার করে মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদ, গাজীর বাজার, বাংলা বাজার এবং উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। বর্ষায় পথটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান অভিভাবকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘গাজীর বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার সড়ক পাকা বা ইটের সলিং করা হলে বদলে যাবে পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা। পাশের ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরের সঙ্গে মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।’
মোটরসাইকেলচালক সৌরভ বলেন, ‘সড়কটি ভালো না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও খরচ হয়। পাকা সড়ক হলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে পরিবহনব্যয় ও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দুটিই কমবে।’
৬৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মৃধা বলেন, ‘আমার বয়স ৬৫ বছর, এই বয়সেও রাস্তাটিতে একটি ইটের কণাও পড়তে দেখিনি।’
সেতারা বেগম বলেন, ‘বর্ষায় সড়কে এত কাদা হয় যে ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘গর্ভবতী নারী কিংবা অসুস্থ রোগী নিয়ে বর্ষাকালে এ পথ পাড়ি দেওয়া খুবই কষ্টকর। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে উপজেলা সদরে যেতে অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়।’
মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য এটি এলাকার প্রধান সড়ক। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও কৃষকেরা নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করেন। সড়কটি পাকা হলে বর্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।’
কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এটি একটি ইউনিয়ন সড়ক, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী সড়কের উচ্চতা ও প্রস্থসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিক থাকলে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’