ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাবিতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের দুটি স্থানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরের সড়ক এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীস পাল বলেন, কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করার মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথ হলের গেটে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যান। অন্যদিকে টিএসসিতে অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানান।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টা ২০ মিনিটে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। মিছিল থেকে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারি ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিবিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তারা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কথিত গোপন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ছাত্রশক্তির তিন দাবি

ঘটনার প্রতিবাদ ও তদন্তের দাবিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের যেসব কর্মী ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

ছাত্র ফ্রন্টের বিচার দাবি

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল ও ভীতিকর করে তোলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত